সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের আবাসনের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে গোখরো, কেউটের মতো বিষধর সাপ। কখনও আবার সিঁড়ি বা স্যানিটারি পাইপলাইন বেয়ে বিষাক্ত সাপ ঢুকে পড়ছে আবাসনের বাসিন্দাদের কিচেন, বাথরুম, এমনকী বেডরুমেও। আবাসনে সাপের আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবারে। সন্ধের পর আবাসনের রাস্তায় বেরতে ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। প্রি-মনসুন ক্লিনিং না হওয়ায় হাসপাতালের আবাসন এলাকা ঘন ঘাস ও জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। শুধু আবাসন এলাকা নয়, মহকুমা হাসপাতাল চত্বরও পরিষ্কার না হওয়ায় সর্বত্র আগাছায় ঢেকে গিয়েছে। ফলে বিষাক্ত সাপ, পোকামাকড় এবং জোঁকের উপদ্রবে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। ঠিকমতো নিকাশি নালা পরিষ্কার না হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এনিয়ে মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও হলদিয়া পুর কর্তৃপক্ষের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রবিবার সন্ধে নাগাদ হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের আবাসনে সাড়ে ছ’ফুট লম্বা বড় আকারের গোখরো সাপ উদ্ধার হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এরপরই আতঙ্কিত আবাসিকরা হাসপাতাল সুপার ও পুর কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।
আবাসনের বাসিন্দা স্বাস্থ্যকর্মী বাবলু আলম বলেন, গরম পড়তেই বিষাক্ত সাপের উৎপাত শুরু হয়েছিল। আবাসনের মধ্যে রাস্তাগুলি ঘাসে ঢেকে গিয়েছে। সন্ধেবেলা হাঁটাচলা করতে সবাই ভয় পান। বাড়ির মধ্যেও স্বস্তি নেই। দিন দুই আগে তাঁর ঘরের মধ্য থেকে সাপ উদ্ধার হয়েছে। ওয়ার্ড মাস্টারের কোয়ার্টারের পাশে ঘাসের জঙ্গল থেকে ওইদিন সন্ধে নাগাদ গোখরো উদ্ধার হয়েছে। একটি জালের মধ্যে ওই সাপের মুখ কোনওভাবে জড়িয়ে গিয়েছিল। ওয়ার্ড মাস্টারের রুমের ঠিক পাশেই ওই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসতেই পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চকে খবর দেওয়া হয় এবং সাপ উদ্ধার হয়।
হাসপাতাল আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার সাফাইকর্মীরা ওই আবাসন চত্বর পরিষ্কার করতে চান না। একাধিকবার চিঠি দিয়েও লাভ হয়নি। ফলে হাসপাতাল আবাসন ঘন ঘাস জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে। আবাসনের নিকাশি ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা ডুবে যায়। ফলে বর্ষা হলেই সন্ধের পর আবাসিকরা রাস্তায় বিষাক্ত সাপের ভয়ে বেরতে ভয় পান। এবার সাপের উপদ্রব আরও বেড়েছে।
মহকুমা হাসপাতালের আবাসনের নিকাশি ও সাফাই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের মধ্যে যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে, তা মঞ্জুশ্রী বাজার এলাকার মূল হাইড্রেনের চেয়ে গভীর। ফলে বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টি হলেই হাইড্রেনের জলে আবাসন এলাকার রাস্তা ডুবে যায়। এই মুহূর্তে হাসপাতালের আবাসনে ৫০টি পরিবার রয়েছে। ভগ্নপ্রায় আবাসনের দুরবস্থা দেখে চিকিৎসক, নার্সরা ভয়ে অনেকেই আবাসন ছেড়ে বাইরে ভাড়ায় থাকেন। আবাসিকদের প্রশ্ন, সুপার হাসপাতালের বাইরে থাকেন, ফলে উনি সমস্যার কথা কীভাবে বুঝবেন? এদিকে, হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিঠি দেওয়ার পরও প্রায় এক বছর ধরে মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির মিটিং হয়নি।
ফলে হাসপাতালের সমস্যা নিয়ে আলোচনার সুযোগই হয়নি কারও। হাসপাতালের সুপার সুভাষচন্দ্র মাহাত বলেন, আবাসিকরা কেউ আমাকে সাপের উপদ্রবের কথা জানাননি। তবে হাসপাতাল আবাসন পরিষ্কারের জন্য একাধিকবার পুরসভাকে জানিয়েছি। পুর প্রশাসক তথা মহকুমাশাসক সুপ্রভাত চট্টোপাধ্যায় বলেন, শুধু পুরসভা নয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও তার আবাসনের দায়িত্ব নিতে হবে। নিজস্ব চিত্র