নয়াদিল্লি: ভোটের আগে মিয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে মন্তব্য, আবার কখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো পোস্ট। এভাবে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর বিরুদ্ধে লাগাতার বিদ্বেষ ভাষণের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছিল মামলা। কিন্তু শুনানির প্রথম দিনেই তা খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। আবেদনকারীরা আগে কেন গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হননি, সেই প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। এপ্রসঙ্গে আদালত বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলিকে সংযত থাকার পাশাপাশি সাংবিধানিক নৈতিকতার গণ্ডির মধ্যে থাকতে হবে। এভাবে পরোক্ষে হিমন্তকে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি অসম বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়। সেখানে রাইফেল নিয়ে সংখ্যালঘুদের ছবিতে নিশানা করতে দেখা যায় হিমন্তকে। ক্যাপশনে লেখা, ‘পয়েন্ট ব্ল্যাংক শট’। এনিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে ওই পোস্ট মুছে ফেলে গেরুয়া শিবির। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশের এফআইআর দায়ের ও সিট তদন্তের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় বাম নেতৃত্ব। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট মামলা শুনতে রাজি হয় সুপ্রিম কোর্ট। তবে সোমবার তা খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘আপনারা গুয়াহাটি হাইকোর্টে যাননি কেন? হাইকোর্টের ক্ষমতার ভুল মূল্যায়ন করবেন না। প্রত্যেক দলকে সংযত হয়ে সাংবিধানিক নৈতিকতার গণ্ডির মধ্যে থাকতে বলব। তবে ভোটের ঠিক আগে এটি একটি প্রবণতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যাবতীয় ইস্যু এখানেই উত্থাপন করা হয়। এই প্রবণতা উদ্বেগজনক। ইতিমধ্যে পরিবেশ ও আর্থিক মামলায় হাইকোর্টকে বঞ্চিত করেছি আমরা।’ মামলাকারীদের আগে গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে বলেছে প্রধান বিচারপচির বেঞ্চ। একইসঙ্গে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে মামলার দ্রুত শুনানিরও পরামর্শ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।