Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পঞ্চায়েতের তিনটি পার্ক ও সজলধারা প্রকল্পই বেহাল

পঞ্চায়েতের তিনটি পার্ক ও সজলধারা প্রকল্পই বেহাল
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আগের পঞ্চায়েত বোর্ড বিনোদনের জন্য পার্ক আর তার পাশেই সজল ধারা প্রকল্প করেছিল। বিজেপি বোর্ডের আমলে দেখভালের অভাবে বেহাল সেই পার্ক। নষ্ট হতে বসেছে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার সরকারি সম্পত্তি, এমনই দাবি প্রাক্তন তৃণমূল প্রধানের।
Advertisement
তৃণমূল বোর্ড থাকাকালীন স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের মহেশগঞ্জ বাগানেপাড়ায় মহাশ্বেতা দেবী পার্কটি এবং গাদিগাছা ষষ্ঠীতলায় আরও একটি, এই দুটি বিনোদন পার্কের কাজ শেষ করেছিল। বর্তমানে দেখভালের অভাবে পার্কগুলি জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। পার্কের বসার জায়গা থেকে শুরু করে দোলনা ভেঙে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি মহেশগঞ্জ বুড়িমাতলায় পার্কটির কিছু কাজ হয়েছিল। বর্তমান বিজেপির পরিচালিত স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েত কোনও কাজই করেনি এই বিনোদন পার্কের। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বারবার বিষয়টি পঞ্চায়েতকে জানিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না ।
মঙ্গলবার স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের বাগানেপাড়া, ষষ্ঠীতলা গাদিগাছা এবং মহেশগঞ্জ বুড়িমাতলা এই তিনটি বিনোদন পার্কে গিয়ে দেখা গেল, সমস্ত ভাঙাচোরা। কোনও পার্কের সীমানা প্রাচীর ভাঙা। তবে বাগানেপাড়া পার্কটির অবস্থা তুলনামূলক ভালো, কারণ একটি ক্লাব সেটির দেখভাল করছে। তিনটি পার্ক সংলগ্ন সজলধারা প্রকল্পগুলি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ফলে বিশুদ্ধ জল পেতে সমস্যা হচ্ছে স্থানীয়দের। মহেশগঞ্জ বাগানেপাড়ার বাসিন্দা সুভাষ দেবনাথ বলেন, আমাদের এই শিশু উদ্যানটা এখনও ভালো আছে, যেহেতু স্থানীয় ক্লাব দেখভাল করে। অন্যান্য দুটো পার্কের অবস্থা খুবই খারাপ। মহাশ্বেতা দেবী শিশু উদ্যানের রং উঠে গিয়েছে, দোলনাগুলো সারানোর প্রয়োজন। বুড়িমাতলার বাসিন্দা গৃহবধূ শাহানারা বিবি বলেন, আমাদের পার্কের অবস্থা খুব খারাপ। বাচ্চাদের খেলার কিছু নেই। পঞ্চায়েতের এগুলো দেখা দরকার।
মহেশগঞ্জ বাগানেপাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় নবজাগরণ ক্লাবের সভাপতি সত্যম দেবনাথ বলেন, বর্তমানে স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েত দেখভাল করছে না। কোন অর্থও অনুমোদন করেনি। বিগত পঞ্চায়েত বোর্ডে এই পার্কের উন্নতির জন্য অ্যাকশন প্ল্যানে উল্লেখ রেখেছিল, যাতে নতুন করে বাচ্চাদের জন্য কিছু করা যায়। বর্তমান বোর্ড সেটাও বাতিল করে দিয়েছে।
ষষ্ঠীতলা গাদিগাছার বাসিন্দা বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য ননীগোপাল দেবনাথের আবার উল্টো অভিযোগ। তিনি বলেন, তৃণমূল বোর্ড থাকাকালীন এমনভাবে পার্কটা তৈরি করেছিল যে পার্কে আপনা আপনিই বসার জায়গার পাথরগুলো খুলে পড়ছে। এই এলাকার বাচ্চারা এই পার্কেই বিকাল বেলায় খেলতে আসে। ভয় লাগে যে কোনও মুহূর্তে বিপদ না ঘটে। এই সেদিনও গেটের মাথার উপরের একটা অংশ খুলে পড়ে গেছে। অল্পের জন্য একটি বাচ্চা আহত হয়নি। বর্তমান বোর্ডের পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অফিসারকে বলেছি। তিনি বললেন, মেরামতির জন্য তো পঞ্চায়েতকে টাকা দেয়নি। সংস্কার করা যাচ্ছে না।
স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তৃণমূলের সিরাজুল শেখ বলেন, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি মেনে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এই পার্কগুলো করা হয়েছিল। সংলগ্ন এলাকায় সজলধারা প্রকল্পও হয়েছিল। বর্তমানে দেখভালের অভাবে সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এমনকী এই প্রকল্পগুলো অনলাইন টেন্ডারে যারা কম রেট দিয়েছিল তাদের দিয়েই করানো হয়েছিল। পার্ক এবং সজলধারা প্রকল্প মিলে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল। 
স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান ছবি হালদার বলেন, বিনোদন পার্ক এবং সজলধারার বিষয়ে আমরা জানি। শীঘ্রই পঞ্চায়েতে আলোচনার মাধ্যমে এইসব সমস্যার যাতে সমাধান হয় সেই চেষ্টাই করব।
সম্পর্কিত সংবাদ