নয়াদিল্লি: নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জেরে হাঁসফাঁস আমজনতা। তার উপর টান পড়েছে আয় রোজগারে। মোদি জমানায় এই দুইয়ের জোড়া ফলায় জিনিসপত্রের বিক্রিবাটা কমে যাওয়ার তথ্য বিভিন্ন পরিসংখ্যানেই সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে জিএসটি নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর ইঙ্গিত, খুব শীঘ্রই একাধিক পণ্যে কমবে জিএসটির হার। পুরো বিষয়টিকে দীপাবলির উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন মোদি। অর্থাৎ দীপাবলির আগেই নয়া হারে জিএসটির প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, এখন ১২ ও ২৮ শতাংশ জিএসটির যে ধাপ রয়েছে, তা তুলে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে ৫ ও ১৮ শতাংশের ধাপই থাকবে। ১২ শতাংশের আওতায় থাকা পণ্যগুলিতে করের হার হবে ৫ শতাংশ। আর ২৮ শতাংশের ক্ষেত্রে করের হার কমে হবে ১৮ শতাংশ। এর সঙ্গে অবশ্য থাকবে অতিরিক্ত একটি ধাপ। ৪০ শতাংশের। সিগারেট, গুটখার মতো তামাকজাত দ্রব্য ও বিয়ার এবং বিলাসবহুল সামগ্রীতে চড়া হারে জিএসটি ধার্য হতে পারে।
তবে ৪০ শতাংশের স্ল্যাবে খুব বেশি হলে ৫ থেকে ৭ সাতধরনের পণ্য রাখা হবে বলে সূত্রের খবর। ফলে রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিনের মতো পণ্যগুলিতে জিএসটির হার কমতে পারে। এই পরিবর্তন হলে জিএসটির মূল কাঠামো মোট তিনটি ধাপ হবে – ৫, ১৮ আর ৪০ শতাংশ। এখন কনডেন্সড মিল্ক, ড্রাই ফ্রুট, ফ্রোজেন ভেজিটেবলস, সসেজ, পাস্তা, জ্যাম, ভুজিয়ার মতো নোনতা খাবার, টুথপেস্ট, ফিডিং বটল, কার্পেট, ছাতা, সাইকেল, বাসন, আসবাব, পেনসিল, পাট ও সুতির হ্যান্ডব্যাগ, হাজার টাকার কম দামের জুতোর উপর ১২ শতাংশ জিএসটি রয়েছে। তা র কমে ৫ শতাংশ হলে স্বাভাবিকভাবেই ওই পণ্যগুলির দাম কিছুটা কমবে। জানা গিয়েছে, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পরোক্ষ কর জিএসটিতে সরলীকরণের এই প্রস্তাব মন্ত্রিগোষ্ঠীর কাছে পাঠিয়েছে। ওই গোষ্ঠী
তাদের সুপারিশ জিএসটি কাউন্সিলে পেশ করবে। সমস্ত রাজ্যগুলির অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির মাথায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। মন্ত্রিগোষ্ঠীর সুপারিশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কাউন্সিল। ছবি: পিটিআই