সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: এবার মেচির শাখা খেমচি নদীর পাড় দখল করে অবৈধভাবে হিউম পাইপের কালভার্ট বানিয়ে গার্ডওয়াল তোলা হয়েছে। প্লট বানিয়ে সরকারি সেই জমি বিক্রির চেষ্টা শুরু করেছে জমি মাফিয়ারা। নকশালবাড়ি ব্লকের মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হাড়িয়া মোড় সংলগ্ন পাতারাম জোতে চলছে এই অবৈধ কারবার। যদিও এব্যাপারে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর।
ওই জমিতে যাওয়ার জন্য রাস্তা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই রাস্তার মাঝে রয়েছে মেচির শাখা নদী খেমচি। নদীর উপর হিউম পাইপ দিয়ে কালভার্ট তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে বানানো হয়েছে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ গার্ডওয়াল। নদীর উল্টোদিকে কয়েক একর সরকারি জমি রয়েছে। সেই জমি কেনার জন্য রোজই বাইরে থেকে লোকজন আসছে।
নকশালবাড়ি থেকে পানিঘাটা যাওয়ার রাস্তায় হাড়িয়া মোড়। ইতিমধ্যেই সেখানে সরকারি জমি দখল করে একাধিক বসতি হয়ে গিয়েছে। তৈরি হয়েছে প্রচুর দোকান। আছে রেস্টুরেন্টও। আর এতেই এই অঞ্চলের জমির চাহিদা বেড়েছে। ফলে এবার খেমচি নদীর ধারে থাকা পতিত জমিতে নজর পড়েছে মাফিয়াদের। নদীর কয়েকশ মিটার দূরে আছে রকমজোতগামী কংক্রিটের রাস্তা। সেই রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে খেমচি নদী।
স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ রায় বলেন, এলাকায় চাষের জমিতে নজর পড়েছে জমি মাফিয়াদের। ইতিমধ্যেই কয়েক একর জমি প্লটিং করা হয়েছে। কেউ কেউ বাড়িও তৈরি করেছে। শিলিগুড়ি শহর থেকে অনেকটা দূরে প্রত্যন্ত এলাকা বলে প্রশাসনের নজর নেই এদিকে।
মণিরাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গৌতম ঘোষ বলেন, এনিয়ে কেউ কোনও অভিযোগ করেননি। তবে সরকারি জমিতে কোনও অবৈধ নির্মাণ মেনে নেওয়া হবে না। ভূমিদপ্তরে অভিযোগ জানাব। তাঁর সংযোজন, সম্প্রতি মণিরামের সুরজবরে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। আমরা কোনও ভাবেই জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য মেনে নেব না। এনিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নকশালবাড়ির বিএলআরও দীপাঞ্জন মজুমদার বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব চিত্র।