সংবাদদাতা, বহরমপুর: পানীয় জলের পাইপ ফেটে পরিস্রুত জল নদীতে পড়ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় হরিপড়পাড়া ব্লকের কুমড়োদহ ঘাটে এভাবেই অপচয় ঘটছে পানীয় জলের। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, পিএইচই দপ্তরে বারবার জানিয়েও ফল হয়নি। এভাবে জলের অপচয়ে সাধারণ মানুষের পানীয় জলের ঘাটতি পড়ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এলাকার বহু ট্যাপ কলের মাথা নেই। ট্যাপের ভাঙা মুখ দিয়ে রোজ তিনবেলা গ্যালন গ্যালন জল নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় কিছু মানুষই পানীয় জল অপচয় রুখতে সরব হয়েছেন।
হরিহরপাড়া ব্লকে পানীয় জলের পরিষেবা দিতে বহরমপুর থেকে পাইপ লাইন গিয়েছে। মাটির তলা দিয়েই গিয়েছে জলের লাইন। কুমড়োদহ ঘাটে পাইপ লাইনটি ভাণ্ডারদহ বিলের উপর দিয়ে গিয়েছে। ভাণ্ডারদহ বিলের উপর লোহার কাঠামো তৈরি করেই পাইপ লাইন ওই জলাভূমি পার করা হয়েছে। বিলের পূর্বপ্রান্তের এক জায়গায় পাইপ লাইন ফেটে তীব্র গতিতে জল বিলে পড়ছে। পরিস্রুত জল রিজার্ভারে তোলার সময়ই এই জল অপচয় হচ্ছে। কুমড়োদহ এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, পাইপ লাইন বসানোর কিছুদিন পর থেকেই জলের অপচয় দেখে আসছি। বার কয়েক জল সরবরাহ দপ্তরে জানানো হয়েছিল। কিন্তু আজও জলের অপচয় বন্ধ হয়নি। এই ঘটনা প্রশাসনের কর্তাদের নজর এড়িয়েছে বলে আমি মানতে রাজি নই। কারণ বহরমপুর হরিহরপাড়া রাজ্য সড়কের গা ঘেঁষে পাইপ লাইন রয়েছে।
শুধু পানীয় জলের মেইন লাইনেই জলের অপচয় হচ্ছে না। গ্রামে গ্রামে পরিস্রুত জল সরবরাহের বহু সাব লাইনে লিকেজ রয়েছে। যেখান দিয়ে জল নষ্ট হচ্ছে। বহু ট্যাপ বন্ধ করার উপায় না থাকায় সেখান থেকেও অনবরত জল পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা অমল হালদার বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ জলই অপচয় হচ্ছে। এর ফলে পানীয় জলের ঘাটতি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বেশ কিছু এলাকার মানুষকে পানীয় জলের জন্য নাকাল হতে হয়। আক্কাস মোল্লা বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এরজন্য দায়ী। কোথাও ট্যাপের মাথা চুরি হয়ে যাচ্ছে। কোথাও ট্যাপের মাথা ইচ্ছাকৃত ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এভাবে পানীয় জল সব্জির জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। পিএইচই দপ্তরের এক আধিকারিক জানালেন, কুমড়োদহ ঘাটে পানীয় জল পরিষেবার মেইন লাইনে জল অপচয়ের বিষয়টি নজরে আছে। অতি সত্ত্বর ভাঙা অংশ মেরামত করে জল অপচয় বন্ধ করা হবে।