সংবাদদাতা, ডোমকল: চলছে পাট পাচানোর মরশুম। প্রতিবছর এই মরশুম এলেই শুরু হয় রাস্তা দখলের প্রবণতা। গ্রামীণ এলাকার সড়কগুলি ছাড়াও মহকুমার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ধারে ডাই করে ফেলে রাখা হয় জমি থেকে কেটে আনা পাটগাছ। রাস্তার পাশে এভাবে কাটা পাটগাছ ডাই করে রাখার কারণে মাঝেমধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। এবছরও ব্যাপক বিপদের সম্মুখীন হচ্ছিলেন পথ চলতি মানুষজন। পরিস্থিতি দেখে এবারে কড়া পদক্ষেপ নিল সাগরপাড়া থানার পুলিস। পুলিসের তরফে বুলডোজার দিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলা হয় কাটা পাটগাছ। পুলিসের এই ভূমিকায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরল পথচারীদের মধ্যে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাগরপাড়ার বিস্তীর্ণ খয়রামারি বিল ও তার আশেপাশের জলাশয়গুলিতে পাট জাঁক দিয়ে থাকেন এলাকার চাষিরা। একেবারে রাস্তার ধারে ওই সব জলাশয় থাকায় প্রথমে ট্রাক্টরে করে মাঠের কাটা পাটগাছ এনে ডাই করে রাখা হচ্ছিল ওই জলাশয়গুলি সংলগ্ন রাস্তার ধারে। জলে ডুবিয়ে জাঁক দেওয়ার কাজ শুরু হয়। কিন্তু লাগাতার এই প্রক্রিয়া চলতে থাকায় ওই রাস্তায় ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। রাস্তার উপরে পাটগাছের স্তূপ জমে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছিলেন অনেকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামে পুলিস। প্রথমে এলাকায় মাইকিং করে রাস্তার ধারে পাট কিংবা কোনও ইমারতি দ্রব্য না রাখতে অনুরোধ করা হয়। সেই সতর্কবার্তার কোনও তোয়াক্কা না করেই দিব্যি রাস্তার ধারে কাটা পাটগাছ রাখছিল অনেকেই। তাই কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া পুলিস প্রশাসন। রবিবার বিকেলের দিকে থেকে সাগরপাড়ার ফকিরাবাদ থেকে খয়রামারি রাস্তায় পুলিসের তরফে বুলডোজার নিয়ে গিয়ে রাস্তার ধারে থাকা ওই সব পাটের বোঝা সরিয়ে দেওয়া হয় রাস্তা থেকে। তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে পথচারীদের মধ্যে। রবিউল আলম নামের এক ব্যক্তি বলেন, প্রায়ই এই রাস্তা দিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। একদিকে রাস্তার উপরে মাঠের কাদা, অপরদিকে পাটগাছের বোঝা। যাতায়াতে ভীষণ সমস্যা হতো। পুলিসের এই পদক্ষেপে যদি চাষিদের হুঁশ ফেরে তাহলে খুব ভালো হয়। মরজেম মণ্ডল নামের এক চাষি বলেন, আমরা সাধারণ চাষি। আমাদের জায়গা নেই, তাই রাস্তার উপর রাখতাম। পুলিস প্রশাসন তাতে বারণ করছে। তা মেনে চলব। পুলিস জানিয়েছে, রাস্তার ধারে এভাবে কোনও কিছু রেখে যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি করে উচিত নয়। তাই প্রথমে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল। অনেকেই সেই সতর্কবার্তায় কান দেয়নি। এই সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই পদক্ষেপ করতে হয়েছে।