Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে ভূগর্ভস্থ জলভাণ্ডার বাড়াতে মাটির গভীরে পরীক্ষামূলক জল পাঠাচ্ছে পিএইচই

প্রাকৃতিক উপায়ে ভূগর্ভস্থ জলভাণ্ডার পূরণ হতে দীর্ঘসময় লাগে। তাই এই ভাণ্ডারকে ধরে রাখতে রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

ঝাড়গ্রামে ভূগর্ভস্থ জলভাণ্ডার বাড়াতে মাটির গভীরে পরীক্ষামূলক জল পাঠাচ্ছে পিএইচই
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: প্রাকৃতিক উপায়ে ভূগর্ভস্থ জলভাণ্ডার পূরণ হতে দীর্ঘসময় লাগে। তাই এই ভাণ্ডারকে ধরে রাখতে রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের মতো জেলাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলার পিএইচই দপ্তরের উদ্যোগে লালগড় ব্লক সদর, ঝিটকা, বীরকাঁড় ও নেতাই এলাকায় গ্ৰাউন্ড ওয়াটার রিচার্জ স্ট্রাকচার গড়ে তোলা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলা পিএইচই দপ্তরের আধিকারিক রাহুল মণ্ডল বলেন, লালগড়ে পরীক্ষামূলকভাবে ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডারে জল পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলাজুড়ে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হবে।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম জেলা শুখা প্রকৃতির। জেলার উত্তর ও পশ্চিম অংশের ভূমিস্তর পাথুরে। ভূগর্ভস্থ জলই জেলায় একমাত্র ভরসা। অত্যধিক সাবমার্সিবল ব্যবহারের ফলে ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডারের জল ক্রমশ কমে যাচ্ছে। জলবায়ু গবেষণার তথ্যে জেলায় ১৯৮৪-২০১৪ সালের মধ্যে তাপমাত্রা বাড়ার কথা উঠে এসেছে। বৃষ্টিপাত ১০মিলিমিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। ভূগর্ভের জলভাণ্ডার ‘রিচার্জ’ না হলে তীব্র জলসংকট দেখা দেবে। পানীয় জলের পাশাপাশি গৃহস্থালি ও কৃষিকাজের ক্ষেত্রে যথেচ্ছভাবে ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের পশ্চিম থেকে পূর্বদিকের জমি ঢালু। বৃষ্টির জল এমনিতেই জমির ঢাল বেয়ে নীচে নেমে আসে। কংক্রিটের বহুতল বাড়ি, ঢালাই রাস্তার জেরে ভূগর্ভে জল প্রবেশ করতে পারছে না। তাই মাটির নীচের জলভাণ্ডার রিচার্জ হতে পারছে না। জেলার বিভিন্ন জায়গায় পাঁচ বছর আগেও ৫০ফুট গভীর নলকূপে জল পাওয়া যেত। এখন ১০০ফুট নীচেও জল পাওয়া যাচ্ছে না। জলস্তরের ভারসাম্য হারাতেই আর্সেনিক, আয়রন, ফ্লোরাইড ও অন্যান্য যৌগ বেড়ে চলেছে। পরিস্থিতি সামলাতে জেলায় এবার প্রযুক্তির সাহায্যে ভূগর্ভের জলস্তরের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
বিনপুর-১ ব্লকে প্রথম পর্যায়ে চারটি রিচার্জ ওয়েল বা পারকোলেশন ট্যাঙ্ক গড়ে তোলা হয়েছে। জলের আয়রন সরাতে আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্টও বসানো হয়েছে। জেলার পশ্চিমে পাহাড়ী ভূমি রয়েছে। ভূমিস্তরেও পাথর রয়েছে। পাহাড়ী এলাকার জলভাণ্ডার রিচার্জ করার কাজ প্রায় অসম্ভব। পিএইচই দপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য, ভূমি বৈচিত্র্যের সমীক্ষা করে জলস্তর বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। তবে, জলের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। না হলে আগামী দিনে জল সংকট রোধ করা যাবে না।
ঝাড়গ্রামের নতুনডিহি এলাকার বাসিন্দা দীপক মাহাত বলেন, শহরে পরপর বহুতল ভবন, শপিংমল গড়ে উঠেছে। জনসংখ্যা বাড়ায় ঘরবাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। শহরের রাস্তা, ড্রেন কংক্রিটের তৈরি। প্রশাসন সুস্থায়ী উন্নয়নমূলক কাজের কথা বলছে। কিন্তু, বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। বাড়ি বাড়ি এখন সাবমার্সিবল রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ভূগর্ভস্থ জলভাণ্ডারে টান পড়ছে।
লালগড় গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুনীল মুর্মু বলেন, সাধারণ টিউবওয়েল বসালে আয়রন বেশি ওঠে। তাই ডিপ সাবমার্সিবল বসানো হয়। চাষের কাজে জল বেশি ব্যবহার হয়। যথেচ্ছভাবে জল ব্যবহার না করার বিষয়ে চাষি ও গ্ৰামবাসীদের সচেতন করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ