Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

পিএফের পেনশন: তোলা যাবে না তিন বছর পর্যন্ত

পিএফ গ্রাহকরা চাকরি ছাড়লে বা কর্মক্ষেত্র বদল করলেও পেনশন ফান্ডের টাকা তুলতে পারবেন না। তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে অন্তত তিন বছর। বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা যাতে পেনশন ফান্ডে টাকা রাখায় আরও বেশি উৎসাহিত হন, তার জন্যই কেন্দ্র এই নয়া নিয়ম আনতে চলেছে বলে খবর।

পিএফের পেনশন: তোলা যাবে না  তিন বছর পর্যন্ত
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:১২

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: পিএফ গ্রাহকরা চাকরি ছাড়লে বা কর্মক্ষেত্র বদল করলেও পেনশন ফান্ডের টাকা তুলতে পারবেন না। তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে অন্তত তিন বছর। বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা যাতে পেনশন ফান্ডে টাকা রাখায় আরও বেশি উৎসাহিত হন, তার জন্যই কেন্দ্র এই নয়া নিয়ম আনতে চলেছে বলে খবর। 

Advertisement

এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা ইপিএফও’র গ্রাহকরা তিনটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকেন। পিএফ, পেনশন ও বিমা। প্রতি মাসে কর্মদাতা সংস্থা কর্মচারীর নামে যে ১২ শতাংশ টাকা পিএফে জমা করে, তার থেকে ৮.৩৩ শতাংশ চলে যায় পেনশন ফান্ডে। কর্মজীবনে জমা হওয়া ওই ফান্ড থেকেই পেনশন দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে শর্ত হল, অন্তত ১০ বছর পেনশন ফান্ডে টাকা জমা করতেই হবে। কেউ যদি কর্মক্ষেত্র বা সংস্থা বদল করেন, তখন তাঁর পেনশন ফান্ডটিও নতুন সংস্থায় সরানো হয় এবং ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। কিন্তু পিএফ গ্রাহক ১০ বছরের আগেই চাকরি ছেড়ে দিলে বা পিএফে টাকা জমা পড়ার ধারাবাহিকতা না থাকলে তিনি পেনশন পাওয়ার যোগ্য নন। সেক্ষেত্রে তিনি পেনশন ফান্ডের টাকা তুলে নিতে পারেন। আবার কোনও গ্রাহক যদি ১০ বছরের আগেই একটি চাকরি ছেড়ে অন্য সংস্থায় যোগ দেন, তাহলেও আগের চাকরিতে জমানো পেনশন ফান্ডের টাকা তুলে নিতে পারেন। বহু গ্রাহক এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে পিএফের সঙ্গে পেনশন ফান্ডের টাকাও তুলে নিচ্ছেন। ইপিএফও সূত্রে আরও খবর, বহু শিল্প সংস্থায় প্রতি বছর কর্মীদের খাতায়-কলমে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং নতুন করে তাঁদেরই নিয়োগ করা হয়। এসব ক্ষেত্রেও কর্মীরা প্রতি বছর পেনশন ফান্ডের টাকা তুলে নেন। 
ইপিএফও জানাচ্ছে, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে পেনশন ফান্ড থেকে টাকা তুলে নেওয়া গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৩১ লক্ষ ১১ হাজারের বেশি। এঁদের মধ্যে চার বছরও পেনশন ফান্ডে টাকা জমা না করে তুলে নেওয়ার হার ৭৫ শতাংশ। সর্বাধিক কর্মী টাকা তুলে নিচ্ছেন এক থেকে দু’বছরের মধ্যে। প্রসঙ্গত, পেনশন ফান্ডে জমানো সব টাকা কর্মীরা পান না। একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলার ভিত্তিতে টাকা মেলে। পিএফ কর্তৃপক্ষ দেখছে, অন্য চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় পেনশন ফান্ডের টাকা তুলে নেওয়ার সু্যোগ কাজে লাগাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ কর্মী। ফলে পেনশন নেওয়ার প্রবণতা কমছে। এই প্রবণতা ঠেকাতেই অন্তত তিন বছর গ্রাহক যাতে টাকা না তুলতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করছে কর্তৃপক্ষ।
ইপিএফও’র কেন্দ্রীয় আছি পরিষদের সদস্য তথা টিইউসিসির সাধারণ সম্পাদক শিওপ্রসাদ তেওয়ারি বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যের কাছে আর্জি রেখেছিলাম, পেনশন ফান্ডের রিটার্ন বাড়াতে হবে। সেই মতো রিজার্ভ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রকের পরামর্শে ইনভেসমেন্ট ব্যাংকের সংখ্যা বৃদ্ধি, পোর্ট ফোলিও ম্যানেজার নিয়োগ ও ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিলের  পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়। আশা করছি, পেনশনভোগীরা উপকৃত হবেন।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ