ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: সময়ে কর্মীদের পিএফ জমা না পড়ায় সুদ সহ উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা জরিমানা। এ ব্যাপারে পিএফ কর্তৃপক্ষের তরফে ইতিমধ্যেই নোটিশ ধরানো হয়েছে এনবিএসটিসিকে। দু’মাসের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। নতুবা নিগমের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘অ্যাটাচ’ করে বকেয়া ওই টাকা আদায় করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তৃপক্ষের তরফে। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়েছে।
নিগম সূত্রে খবর, সময়ে পিএফের টাকা জমা না পড়ার যে বিষয়টিকে সামনে রেখে প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তৃপক্ষ তাদের কড়া নোটিশ ধরিয়েছে তা বাম আমলের ঘটনা। নব্বইয়ের দশকে দীর্ঘদিন ধরে এনবিএসটিসির কর্মীদের পিএফের টাকা ঠিকমতো জমা পড়েনি। যার কারণে ১২ শতাংশ সুদ সহ জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি টাকারও বেশি। এদিকে, স্বল্প সময়ের মধ্যে পিএফ খাতে কীভাবে এত টাকা বকেয়া মেটানো সম্ভব তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় এনবিএসটিসি কর্তৃপক্ষ। এর আগে কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ঠিকমতো জমা না পড়ায় নিগমের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘সিজ’ করে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা আদায় করে পিএফ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এবার টাকার অঙ্ক অনেকটাই বেশি। ফলে তৈরি হয়েছে ঘোর সংকট। গোটা বিষয়টি নিগমের তরফে রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। আজ, বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে রাজ্যকে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই।
বুধবার জলপাইগুড়ির আঞ্চলিক পিএফ কমিশনার পবন বনসাল বলেন, সময়ে কর্মীদের পিএফের টাকা জমা না দেওয়ায় জরিমানা এবং সুদ সহ এনবিএসটিসির বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি টাকারও বেশি। এনিয়ে আমরা অ্যাসেসমেন্ট করে গত মাসে নিগমকে নোটিশ পাঠিয়েছি। আইন অনুযায়ী নোটিশ পাওয়ার পর থেকে বকেয়া টাকা জমা করার জন্য তারা ৬০ দিন অর্থাৎ দু’মাস সময় পাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি বকেয়া টাকা জমা না পড়ে, সেক্ষেত্রে নিয়ম মেনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘অ্যাটাচ’ করে ওই টাকা আদায় করা হবে।
এ ব্যাপারে এনবিএসটিসির চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়ের বক্তব্য, সময়ে পিএফ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতীতে কিছু সমস্যা ছিল। এর কারণে বেশ কিছুটা বকেয়া তৈরি হয়েছে। পিএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমরা ওই বকেয়া মেটানোর চেষ্টা করছি। নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, পিএফ কর্তৃপক্ষের নোটিশ পেয়েছি। সময়ে কর্মীদের পিএফের টাকা জমা না পড়ার যে বিষয়টি বলা হচ্ছে, তা মূলত নব্বইয়ের দশকের ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে ওই বকেয়া মেটাতে না পারায় এখন পিএফ কর্তৃপক্ষ সুদ সহ জরিমানা চাপিয়েছে। তিনি বলেন, পিএফ খাতে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা মেটানো অসম্ভব। রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে আমরা বিষয়টি জানাচ্ছি। • ফাইল চিত্র।