Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মনিবের মৃত্যুতে অস্বাভাবিক আচরণ, বন দপ্তরের জিম্মায় গেল পোষ্য বাঁদর

মনিবের মৃত্যু হয়েছে। সেই শোকে খাওয়াদাওয়া ভুলেছে মঙ্গলকোটের শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লালমুখো ফোট্টু।

মনিবের মৃত্যুতে অস্বাভাবিক আচরণ,  বন দপ্তরের জিম্মায় গেল পোষ্য বাঁদর
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: মনিবের মৃত্যু হয়েছে। সেই শোকে খাওয়াদাওয়া ভুলেছে মঙ্গলকোটের শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লালমুখো ফোট্টু। শোকে অভিমানে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই আঁচড় বসাচ্ছে। এহেন ফোট্টুকে বৃহস্পতিবার বনদপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হল। কারণ মনিবের পরিবার চায়, আদরের ফোট্টু ভালো থাকুক। 
ফোট্টু আসলে লালমুখো বাঁদর। মঙ্গলকোটের শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বূদ্ধ রূপনাথ কর্মকারের পোষ্য ছিল। রূপনাথবাবু গত চারদিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তারপর থেকেই তাঁর আদরের ‘ফোট্টু’ খাওয়াদাওয়া ভুলেছে। অস্বাভাবিক আচরণ করছে। যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই আঁচড়ে দিচ্ছে। এদিন রূপনাথবাবুর স্ত্রী কাঞ্চনদেবী বলেন, আমি সকালে খেতে দিতে গেলে খায়নি। উপরন্তু আমার ডান হাতে কামড়ে দিয়েছে। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই সে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। তাই ওকে আমরা বনদপ্তরেত হাতে তুলে দিয়েছি। 

Advertisement


জানা গিয়েছে, বাড়িতেই রূপনাথবাবুর সাইকেল মেরামতের দোকান ছিল। বছর সাত আগে তিনি গ্রামেই ওই বাঁদরটিকে দেখতে পান। তখন ছোট্ট ওই বাঁদরটির উপর কুকুরের দল হামলা চালাচ্ছিল। তা দেখে রূপনাথবাবু বাঁদরটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। সেই থেকে বাঁদরটি রূপনাথবাবুর সঙ্গী ছিল। তাকে খাওয়ানো ও আদর করতেন রূপনাথবাবু। এছাড়াও গ্রামে অনেকের কাছেই প্রিয় হয়ে উঠেছিল ফোট্টু। এদিন রূপনাথবাবুর ছেলে প্রসেনজিৎ কর্মকার বলেন, বাবার খুব প্রিয় ছিল বাঁদরটি। বাবার মৃত্যুর পরে সে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। খেতে দিলে খাচ্ছে না। এভাবে ফোট্টুর শারীরিক অবস্থা খারাপ হবে। তাই আমরা বনদপ্তরের হাতে ওকে তুলে দিয়েছি।  এদিন বনদপ্তর বাঁদরটিকে বাগে আনতে ঝক্কি পোহাতে হয় বনকর্মীদের।  বর্ধমানের রমনাবাগান অভয়ারণ্যে বাঁদরটিকে রাখা হবে। 
 মঙ্গলকোটের শিমুলিয়ায় ফোট্টুকে বন দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হলো।  -নিজস্ব চিত্র        

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ