নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: হটন রোডের মুখে অ্যাম্বুলেন্স সাইরেন বাজিয়েই চলেছে। ভিতরে রোগী কাতরাচ্ছেন, আর্তনাদ করছেন আত্মীয়রা। অ্যাম্বুলেন্স চালক স্টিয়ারিং হাতে অসহায় অবস্থায় বসে রয়েছেন। ভয়ানক ট্রাফিক জ্যামে ফেঁসে গিয়েছেন সবাই। রাস্তার নীচে গাড়ি নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে জায়গা করে দেওয়ার উপায় এখন আর নেই। আর তো ফুটপাতে বাঁশ-ত্রিপল খাটানো দোকান নেই। এখন ব্যবসায়ীদের পাকা ইমারতের দোকান, হাত লাগায় কার সাধ্য! অগত্যা রোগীকে কাতরাতেই হল। পথচলতি মানুষ সিস্টেমের বিরুদ্ধে দু’-চার কথা বলে হালকা হলেন। আসানসোল শহরের অন্যতম লাইফলাইন হটন রোডে এটাই নিত্যদিনের ঘটনা। দিনে-দুপুরে রাস্তা দখল করে একের পর এক পাকা দোকান গড়ে উঠছে। তাতে লাগাম টানার ক্ষমতা কারও নেই। দখলদারদের হাত নাকি পুরসভার থেকেও লম্বা।
কয়েক মাস আগে হটন রোডের উপর রাস্তা, ড্রেন দখল করে দু’টি পাকা দোকান নির্মাণ নিয়ে শোরগোল পড়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, এক জনপ্রতিনিধিকে ৪০ হাজার টাকা করে ‘কাটমানি’ দিয়ে দোকান তৈরি করা হয়। এমনিতেই জ্যামের জন্য হটন রোড যথেষ্ট কুখ্যাতি রয়েছে। এই রাস্তা ধরে বাসস্ট্যান্ড থেকে এসবি গরাই রোড যেতে মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে। তারপর যদি রাস্তা দখল করে পাকা নির্মাণ হয়, তাহলে চলাচল করাই ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাবে। বেগতিক বুঝে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা। তারা জানায়, রাস্তার দু’পাশে ড্রেন করা হবে। তারজন্য দখলদারদের উঠে যেতে হবে। পুলিস-প্রশাসন ও পুরসভা যেদিন দখলমুক্ত করতে যাবে, ঠিক তখনই কোনও এক অজ্ঞাত কারণে অভিযান স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। সেদিন দখলদাররা প্রমাণ করেছিল, তাদের হাত পুরসভার থেকেও লম্বা। এখন হটন রোডের রাস্তা, ড্রেন দখল করে পরপর দোকান গড়ে উঠছে। রাস্তা আরও সঙ্কীর্ণ হয়ে আসছে। জানা গিয়েছে, সেদিনের ক্ষমতা জাহিরে সবচেয়ে বেশি লাভ হয়েছে কাটমানি খেয়ে দোকান বসানো প্রভাবশালীদের। ৪০ হাজার টাকার রেট এখন বেড়ে এক লক্ষ। সঙ্গে গ্যারান্টি, ‘তোমাদের পাকা দোকান পুরসভাও ভাঙতে পারবে না’। দিনে-দুপুরে এই অরাজকতা দেখে বীতশ্রদ্ধ আসানসোলবাসী। এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি পুরসভার কর্তারাও।
শুধু হটন রোড নয়, উষাগ্রাম মোড় থেকে নিউ ঘুসিক কোলিয়ারি পর্যন্ত আসানসোল শহরের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বেদখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবারই ডাকযোগে গুরুতর অভিযোগ এসেছে পুরসভার কাছে। অভিযোগ, কাউন্সিলারদের এনিয়ে অভিযোগ করেও লাভ হচ্ছে না। জানা গিয়েছে, শুধু আসানসোল শহরেই নয়, কাটমানি খেয়ে রাস্তার উপর দোকান করার ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে জেলার অন্য প্রান্তেও। কাঁকসায় পুরনো জিটি রোডের দু’পাশে এভাবেই দখল হচ্ছে বলে অভিযোগ। একইভাবে টাকার বিনিময়ে রাস্তার উপর দোকান বসানো হচ্ছে রূপনারায়ণপুর এলাকাতেও। কাটমানি খাওয়া প্রভাবশালীদের একটা বড় অংশই শাসক দলের পরিচিত মুখ বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
ডিসি(ট্রাফিক) ভিজি সতীশ পশুমূর্তি বলেন, রাস্তা জবরদখল হলে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা পুরসভাকেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছি। পুরসভাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানও করা হয়।