Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমি কেনাবেচায় নিতে হবে অনুমতি, নন্দকুমারের খঞ্চিতে ব্যানার ঝুলিয়ে গ্রাম কমিটির ফতোয়া

নন্দকুমার ব্লকের খঞ্চিতে এনিয়ে প্রকাশ্যে ব্যানারে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি লিখে ফতোয়া জারি করল খঞ্চি দক্ষিণ-পশ্চিম গ্রাম কমিটি।

জমি কেনাবেচায় নিতে হবে অনুমতি, নন্দকুমারের খঞ্চিতে ব্যানার ঝুলিয়ে গ্রাম কমিটির ফতোয়া
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দকুমার: জমি কেনাবেচা করতে গেলে গ্রাম কমিটিকে জানাতেই হবে। নন্দকুমার ব্লকের খঞ্চিতে এনিয়ে প্রকাশ্যে ব্যানারে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি লিখে ফতোয়া জারি করল খঞ্চি দক্ষিণ-পশ্চিম গ্রাম কমিটি। সেই কমিটির মাথায় আছেন তৃণমূল কংগ্রেসের তাবড় নেতারা। ওই নিদান ঘিরে এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য জয়দেব হাজরার দাবি, তিনি এই ফরমানের বিরোধী। এনিয়ে তিনি নন্দকুমারের বিধায়ক সুকুমার দে-র কাছে অভিযোগ করেছেন। তবে, প্রশাসন, পুলিশ কিংবা বিধায়কের পক্ষ থেকে এখনও এনিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে ৫০০মিটার দূরে খঞ্চিতে গ্রাম কমিটির ফতোয়া জারি করা ওই নোটিশ বুধবারও ছিল।

Advertisement

নন্দকুমার ব্লকের খঞ্চি এলাকায় জমির দাম এখন লাফিয়ে বাড়ছে। কোলাঘাট-হলদিয়া জাতীয় সড়ক সংলগ্ন গ্রামে জমির দাম প্রতি ডেসিমল সাত-আট লক্ষ টাকা। গ্রামের ভিতরের অংশে সেটি আড়াই-তিন লক্ষের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অনেকেই খঞ্চিতে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকার জমি কিনছেন। জমির ব্যাপক চাহিদা দেখে গ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে জমি কেনাবেচায় নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। এনিয়ে ‘নোটিশ’ জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘জায়গা জমি ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পল্লি উন্নয়ন কমিটিকে জানাতে হবে। অনুমত্যানুসারে- খঞ্চি দক্ষিণ পশ্চিম পরিচালন কমিটি।’ সম্প্রতি, ১৬জনের খঞ্চি দক্ষিণ-পশ্চিম গ্রাম কমিটি গড়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি হলেন তৃণমূল নেতা কালীপদ মাইতি। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের দু’টি টার্মের প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। কমিটির সদস্য‌ ঩হিসেবে আছেন তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান অনুপ বেরা, খঞ্চি বাজার কমিটির সভাপতি দীপক সামন্ত, অর্জুন গুড়িয়া, উত্তম ভক্তা প্রমুখ। কমিটির সাম্মানিক সদস্য হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য জয়দেব হাজরা।
গ্রাম কমিটি এলাকায় মাইকিং করে এবং ব্যানার টাঙিয়ে জানিয়েছে, জমি কেনাবেচায় তাদের জানাতে হবে। কমিটিকে না জানিয়ে জমি কেনাবেচা করা যাবে না। এই ফরমান ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এনিয়ে বিজেপির নন্দকুমার-৩ মণ্ডল কমিটির সভাপতি সত্যপ্রসাদ রানা বলেন, এধরনের ফতোয়া একেবারে বেআইনি। প্রকাশ্যে ব্যানার ঝুলিয়ে যেভাবে বিজ্ঞপ্তির নামে জমি কেনাবেচার উপর ফতোয়া জারি করা হয়েছে, তাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা জরুরি। আমরা এনিয়ে ব্লক প্রশাসন ও থানার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বুধবার বাসুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ছিলেন খঞ্চি দক্ষিণ বুথের তৃণমূলের সদস্য জয়দেব হাজরা। তিনি বলেন, এই ফরমানের সঙ্গে আমি একমত নই। এটি আমি মানতে পারিনি। তাই বিধায়ককে বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়েছি। গ্রাম কমিটির সভাপতি কালীপদ মাইতি বলেন, খঞ্চি এলাকায় জমি কেনাবেচায় হস্তক্ষেপ করছে বাইরের দালালরা। মালিকপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে তারা জমি কব্জা করে চড়া দামে বিক্রি করছে। জমির মালিকও উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় গ্রাম কমিটি এবিষয়ে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে কমিটির তহবিলেও কিছু রোজগার হবে। কমিটির সদস্য তথা তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান অনুপ বেরা বলেন, গ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে ওই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, কমিটি নিজস্ব রোজগারের জন্য এই কাজ করেনি। বরং জমি মালিকরা যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ