নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি বছর পুনরায় ই এম বাইপাসে পুজোর বিজ্ঞাপন লাগানোর অনুমতি দিচ্ছে কলকাতা পুরসভা। তবে শর্ত সাপেক্ষে। এর পাশাপাশি, পুরসভা থেকে পুজো সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের ফি ছাড় পেতে ৯০০টি পুজো কমিটি আবেদন করেছে বলে খবর। অফিসাররা জানাচ্ছেন, চলতি বছরই এই এনওসি চালু করা হয়েছে। পুরসভা থেকে এনওসি নিয়ে পুজোর বিজ্ঞাপন দিতে হবে কমিটিগুলিকে। তাহলেই বিজ্ঞাপন ফি-তে ছাড় মিলবে। তবে শহরের সমস্ত পুজো কমিটি এই আবেদন জানায়নি।
গত বছর ই এম বাইপাসে পুজোর বিজ্ঞাপন নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল। নির্দিষ্ট উচ্চতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি উঁচু বাঁশের কাঠামো বানিয়ে বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং-ব্যানার লাগানো হয়েছিল। এমনও জানা যায়, বাইপাস দিয়ে যাওয়ার সময় চিংড়িঘাটা থেকে মেট্রোপলিটন পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে প্রমাণ সাইজের সব বিজ্ঞাপনি কাঠামো দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝড় কিংবা দমকা হাওয়ায় সেই বাঁশের কাঠামো ভেঙে পড়লে পথচারীদের বিপদ ঘটতে পারত। এমনই একটি বাঁশের তৈরি বিজ্ঞাপনের টাওয়ার ভেঙে পড়ে দীর্ঘক্ষণ বাইপাসের রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েছিল গত বছর। এসব কারণে পুরসভা নির্দেশিকা জারি করে জানায়, বাইপাসে পুজো সংক্রান্ত কোনো অস্থায়ী বিজ্ঞাপন কাঠামো রাখা চলবে না। তবে এবার রাজ্যে নতুন সরকার। সেই পুরবোর্ডও ভেঙে গিয়েছে। এবছর পুরসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাইপাসে ফের পুজোর বিজ্ঞাপন লাগাতে দেওয়া হবে। বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, গত বছরের নির্দেশ বাতিল করে নতুন অর্ডার হয়েছে। বাইপাসে পুজোর বিজ্ঞাপনের জন্য বাঁশের ধাঁচা বা কাঠামো তৈরি করা যাবে। তবে ২২ ফুট উচ্চতার বেশি স্ট্রাকচার অনুমোদন করা হবে না। তাছাড়া, বিজ্ঞাপনের জন্য বাঁশের কোনো টাওয়ার বানানো চলবে না। শুধুমাত্র রাস্তার দু’ধারে বা ডিভাইডারে যেভাবে বাঁশের কাঠামো তৈরি করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তেমন স্ট্রাকচারই করা যাবে।
চলতি বছর বিজ্ঞাপন ফি মকুব করার জন্য বিভিন্ন পুজো কমিটিকে এনওসি নিতে বলেছিল পুরসভা। গত শুক্রবার ছিল সেই আবেদনের শেষ দিন। দেখা যাচ্ছে, শহরের প্রায় ৯০০টি পুজো কমিটি এনওসি নিতে আবেদন জানিয়েছে। শহরের বুকে ছোটো-বড়ো মিলিয়ে প্রায় চার হাজার পুজো হয়। তাহলে কি শহরের বাকি পুজো কমিটিগুলিকে পুজোর বিজ্ঞাপনের জন্য ফি দিতে হবে? পুরকর্তারা জানাচ্ছেন, এই ধরনের এনওসির ব্যবস্থা এবছরই প্রথম করা হয়েছে। পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন কমিটিকে বলা হয়েছিল, তারা যেন তাদের পরিচিত কমিটিগুলিকে বিষয়টি জানিয়ে দেয়। কিন্তু অনেকেই আবেদন জানায়নি। তবে প্রথম বছর বলে নিয়মের কড়াকড়ি ততটা করা হবে না। আশা করা যায়, আগামী বছর থেকে সব পুজো কমিটিই এনওসি নেবে।