নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেতাজি ইন্ডোরে সভা করার অনুমতি পায়নি সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফ। তাই ‘আউটডোর’ ধর্মতলাতেই রবিবার দুপুরে নওজয়ান ভারতসভার শতবর্ষে ‘ইনকিলাব সমাবেশ’-এ ধর্মতলা ভরিয়ে দিয়েছিল বামেরা। দীর্ঘক্ষণ শহরের প্রাণকেন্দ্রে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ধর্মতলা থেকে মহম্মদ সেলিম, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়রা মাথা না নোয়ার বার্তা দিলেন, বুথে বুথে লড়াইয়ের কথা বললেন। সমাবেশের সময়জুড়ে পুলিশের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ চলল বাম নেতৃত্বের। পুজোর বাজারের কারণ দেখিয়ে ধর্মতলার একাংশ ছেড়ে দেওয়ার আবেদন করেছিল প্রশাসন। মঞ্চ থেকে বার্তা দেওয়া হলেও কর্মী-সমর্থকরা এক ইঞ্চি নড়েননি রাস্তা থেকে।
ধর্মতলাতেই মঞ্চ বাঁধা হয়েছিল। শনিবার রাত থেকে মুর্শিদাবাদ, জলপাইগুড়িসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মী-সমর্থকরা কলকাতায় আসা শুরু করেন। রবিবার দুপুরে শিয়ালদহ, হাওড়া ও পার্ক স্ট্রিট থেকে তিনটি মিছিল সভাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। নিমেষেই ধর্মতলা চত্বর ভরে ওঠে। গোটা সমাবেশ স্থল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুকান্ত ভট্টাচার্য, নজরুল ইসলাম, ভগত্ সিং, ক্ষুদিরাম বসু, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ছবিতে মুড়ে ফেলা হয়। কেউ বুকে ঝুলিয়েছিলেন জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবি। বক্তব্য রাখেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, আভাস রায়চৌধুরী, ডিওয়াইএফের সাধারণ সম্পাদক হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য ও রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা। সভাপতিত্ব করেন রাজ্য সভাপতি অয়নাংশু সরকার।
এদিনের সভা থেকে বুথে বুথে লড়াইয়ের বার্তা দেন মীনাক্ষী। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো বুথ থাকবে না, যেখানে আমাদের ঝান্ডা থাকবে না।’ স্বাধীনতা সংগ্রামে আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। মীনাক্ষী বলেন, ‘রেল, বিএসএনএল, চিত্তরঞ্জন বেচে দিচ্ছে। এরা চাকরি দেবে? এদের আর চেনার বাকি নেই। এই রাস্তাতেই সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছবি পুড়িয়েছিল। বলছে, বুক স্টল করতে দেবে না। বাবার জমিদারি? বই বেচা বাড়লে, মদ বেচা কমবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘লড়াইটা দেশ বাঁচানোর। কাজের দাবিতে লড়তে এসো। দেখে নেব।’ রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘ভোটের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি। এখন যন্তরমন্তর থেকে ধর্মতলা বলছে, হিসাব দাও। আমরা মাথা নোয়াতে জানি না। মতাদর্শগত শিক্ষায় শিক্ষিত করে আমরা যে সেপাই তৈরি করি, তারা মাথা নোয়ায় না। রাজনীতিতে যারা হেরে যায়, ধর্ম তাদের বাঁচাতে পারে না। আমরা ধর্মের বিরুদ্ধে নই। আমরা একটা ধর্মকে আর একটা ধর্মের উপর চাপানোর বিরুদ্ধে। ধর্ম সরকারের কাজ না। স্কুল কলেজ, চাকরি, রাস্তাঘাটের ব্যবস্থা করা সরকারের কাজ।’