সংবাদদাতা, কাটোয়া: হাঁটুভর জলকাদা ডিঙিয়ে কাটোয়ার কালিকাপুর ফেরিঘাট যেতে হয় স্কুল পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষদের। ভাগীরথীতে নৌকা করে পারাপার করতে হয় পূর্ব বর্ধমান ও নদীয়া জেলার আটটি গ্রামের বাসিন্দাদের। ফেরিঘাটের দুর্গম রাস্তা পেরিয়ে জল কাদায় মাখামাখি হয়ে স্কুল যেতে হয় পড়ুয়াদের। সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসন ফেরিঘাটের রাস্তা করে দিক।
অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের প্রধান অর্চনা বাগ বলেন, আসলে ওই রাস্তায় ছাড়িগঙ্গার জল আসে। গোটা এলাকাটাই চর এলাকা। তাই ঢালাই রাস্তা করলেও জলে ডুবে থাকবে। তবুও আমরা মোরাম বা বিকল্প উপায়ে রাস্তা ঠিক করার ব্যাপারে কথা বলব। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের কালিকাপুর, সাহাপুর প্রভৃতি গ্রামগুলি ভাগীরথী তীরে অবস্থিত। ভাগীরথীর অপর পাড় এলাকার মূল ভূখণ্ড নদীয়া জেলার মধ্যে হলেও সেখানে চর কবিরাজপুর, চর কালিকাপুর, চর সাহাপুর তিনটি গ্রাম পূর্ব বর্ধমান জেলায় অবস্থিত। তবে এই তিনটি গ্রাম ছাড়াও নদীয়া জেলার সাধুগঞ্জ, হাজারাপোতা, পাঁচপোতা, কাঁড়ালিয়া, ফুলতলা, দয়ারামপুর, চর চুয়াডাঙা গ্রামগুলিও পাশাপাশি অবস্থিত। তাই ভাগীরথীর অপর পাড়ে পূর্ব বর্ধমানের তিনটি গ্রামের বাসিন্দা ছাড়াও নদীয়া জেলার লাগোয়া গ্রামগুলির বাসিন্দাদেরও যেকোনও কাজে অগ্রদ্বীপের কালিকাপুর হয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলায় আসতে হয়। কারণ নদীয়া জেলার ওই গ্রামগুলি থেকে কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ যেতে হলে বেথুয়াডহরি দিয়ে ঘুরপথে যেতে হয়। তাই তাঁরা অগ্রদ্বীপ স্টেশন দিয়েই যাতায়াত করেন। আর ভাগীরথীর অপর পাড়ে চর কবিরাজপুর, চর কালিকাপুর, চর সাহাপুর তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের রেশন, চিকিৎসা করাতে গেলেও নদী পেরিয়ে কালিকাপুরে আসতে হয়। কিন্তু বাসিন্দাদের ফেরিঘাটের প্রায় ৭০০ মিটার রাস্তায় তিনবার হাঁটু পর্যন্ত কাদা ডিঙিয়ে আসতে হয়। তারপর কাটোয়া-কালনা পুরনো রোডে ওঠা যায়৷
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ফেরিঘাটের যাতায়াতের রাস্তায় জলকাদা থাকছে। ওই এলাকায় ঢালাই রাস্তা করলেও তা ফেরিঘাট পর্যন্ত যায়নি। ভাগীরথীর অপর পাড় এলাকা চর কালিকাপুর, চর কবিরাজপুর গ্রামগুলি থেকে প্রতিদিন প্রচুর ছাত্রছাত্রী অগ্রদ্বীপ স্কুলে আসে। তাদের স্কুলের পোশাক ভিজে যায়। ভিজে পোশাকেই তাদের ক্লাস করতে হয়। কালিকাপুর ফেরিঘাট যাওয়ার রাস্তাতে ছাড়িগঙ্গা রয়েছে। তাই সেখান দিয়ে জল ঢুকে যাওয়ায় সমস্যা হয়েছে। ফেরিঘাটের দায়িত্বে থাকা যাদব হালদার, অভিজিৎ হালদার বলেন, ওপারে নদীয়া জেলার কাঁড়ানিয়া বিটেক কলেজ রয়েছে। প্রতিদিন এপার থেকে ওই কলেজে অনেক পড়ুয়া পড়তে যান। তাঁদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতিদিন দুশো লোক এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। দু’দিকে বড় বড় ঝোপ জঙ্গল। আমরা চাই অবিলম্বে ফেরিঘাট যাওয়ার রাস্তাতে কালভার্ট করে রাস্তা করে দিক প্রশাসন। তাছাড়া ফেরিঘাটে পোশাক ছাড়ার জন্য ঘর, শৌচালয়, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।-নিজস্ব চিত্র