Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক দশক আগের মৃতরাও ভোটার তালিকায় জীবিত, পূর্ব মেদিনীপুরে কমিশনের সংশোধনী প্রশ্নের মুখে

২০২৫সালে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তমলুক পুরসভায় এরকম বহু মৃত ভোটারের নাম এখনও বাদ পড়েনি

এক দশক আগের মৃতরাও ভোটার তালিকায় জীবিত, পূর্ব মেদিনীপুরে কমিশনের সংশোধনী প্রশ্নের মুখে
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আট-দশ বছর আগে মৃত ব্যক্তিও ভোটার তালিকায় জীবিত! ২০২৫সালে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তমলুক পুরসভায় এরকম বহু মৃত ভোটারের নাম এখনও বাদ পড়েনি। স্বামী-স্ত্রী, বাবা-ছেলে মারা যাওয়ার পর পরিবারের অন্য সদস্যরা জমি বাড়ি বিক্রি করে চলে যাওয়ার পরও ভোটার তালিকায় মৃতদের নাম জ্বলজ্বল করছে। তমলুক পুরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডে ২৩৬নম্বর বুথেই এরকম ১৫জন মৃত ব্যক্তি ভোটার তালিকায় ‘জীবিত’। শহরে সংখ্যাটা আড়াইশোর বেশি। প্রতি বছর ভোটার তালিকা সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের স্পেশাল ড্রাইভ চলে। তাছাড়া, এখন সারা বছর ধরে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলতে থাকে। অথচ বছরের পর বছর মৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ছে না। 

Advertisement

২০১৮সালের ১জানুয়ারি তমলুক পুরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের আবাসবাড়ি চরের বাসিন্দা কানাই জুলকি মারা গিয়েছেন। ২০২৫সালের ভোটার তালিকায় কানাইবাবুর নাম জ্বলজ্বল করছে। তাঁর পুত্রবধূ ছন্দা জুলকি জানান, শ্বশুরের রেশন কার্ড বাতিল হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে কেন নাম বাদ যাচ্ছে না, তা জানা নেই। ২০১৮সালে আবাসবাড়ি চরের বনমালী পণ্ডা আত্মঘাতী হন। তারপর সাত বছর কেটে গিয়েছে। এখনও তাঁর নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। ২০১৮-’১৯সালে আবাসবাড়ি চরের বিকাশ দে ও তাঁর স্ত্রী যমুনা দে এক বছরের ব্যবধানে মারা যান। তাঁদের বসতবাড়ি ও জমি কিনেছেন নন্দকুমারের বিজেপির জেলা সহ সভাপতি ভবেশ বর্মন। পুরনো বাড়ি ভেঙে ওই বিজেপি নেতা এখন নতুন বাড়ি বানাচ্ছেন। বিকাশবাবুর ছেলে সব্যসাচী শিলিগুড়ি চলে গিয়েছেন। অথচ, মৃত দম্পতির নাম এবং স্থানান্তর হওয়া ছেলের নাম এখনও তমলুকের ভোটার তালিকায় রয়েছে। প্রতিবেশী চিন্ময় দে বলেন, পাঁচ-ছ’বছর আগে বিকাশবাবু এবং তাঁর স্ত্রী মারা যান। বসতবাড়ি ও জমি বেচে বিকাশবাবুর ছেলে শিলিগুড়িতে গিয়ে বসবাস করছেন। এখনও কেন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল না জানি না। আমার বাবা দিগম্বর দে দু’বছর আগে মারা গিয়েছেন। এখনও ভোটার তালিকায় বাবার নাম রয়েছে। 
২০২২সালে আবাসবাড়ির বাসিন্দা হোমিওপ্যাথি ডাক্তার মনতোষ চট্টোপাধ্যায় মারা যান। তার আগের বছর অসুস্থ হয়ে তাঁর ছেলে সৌমব্রত চট্টোপাধ্যায় মারা যান। সৌমব্রত দিল্লিতে একটি সংস্থায় চাকরি করতেন। তাঁদের একতলা বাড়িটি বিক্রি করে মনতোষবাবুর স্ত্রী মীরা চট্টোপাধ্যায় পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে চলে গিয়েছেন। মীরাদেবী তমলুক আদালতে চাকরি করতেন। অবসর নেওয়ার পর মেচগ্রামে স্থানান্তরিত হন। অথচ মৃত বাবা-ছেলে ভোটার তালিকায় এখনও ‘জীবিত’। আবাসবাড়ির সক্রিয় তৃণমূল কর্মী রমা দোলই। চার বছর আগে তাঁর ছেলে রঘুনাথ দোলই শহরের নিমতলায় পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। অথচ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েনি। একইভাবে নিমাই মণ্ডল, আশালতা মণ্ডল, লক্ষ্মণচন্দ্র প্রধান সহ প্রচুর মৃত ভোটারের নাম ২০২৫সালের ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে। 
বিজেপির তমলুক নগর মণ্ডলের সহ সভাপতি অঞ্জন প্রামাণিক বলেন, মৃত ভোটারদের নাম অবিলম্বে তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। ভোটের সময় এই মৃত ভোটারদের হয়ে ভুয়ো ভোট পড়ে যায়। আট-দশ বছর আগে মৃত ভোটারদের নাম তালিকায় থাকাটা আশ্চর্যজনক। তৃণমূল কংগ্রেসের তমলুক শহর সভাপতি চঞ্চল খাঁড়া বলেন, ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটারের নাম বাদ যাওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনকে এবিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ