বালি চুরির অভিযোগ, ট্রাক্টর আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিল জনতা
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বালি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের রায়পুর-সুপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে অজয় নদ থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই কারবার বন্ধে কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। তাঁর হুঁশিয়ারি, বেআইনি বালি কারবারে দলের কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রায়পুর ঘাট সংলগ্ন অজয় নদ থেকে মাঝেমধ্যেই অবৈধভাবে বালি তোলা হচ্ছিল। পরে সেই বালি চড়া দামে বিক্রি করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টির উপর নজর রাখছিলেন বাসিন্দারা। অবশেষে শুক্রবার রাতে গ্রামের ভিতর দিয়ে বালি বোঝাই একটি ট্রাক্টর যাওয়ার সময় সেটিকে আটক করেন তাঁরা। খবর দেওয়া হয় বোলপুর থানায়। এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তবে এই নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, বীরভূমের বিভিন্ন নদীঘাটে অবৈধ বালি উত্তোলন নিয়ে আগেও অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল সরকারের আমলেও জেলার বিভিন্ন বালিঘাটে বেআইনি কারবারের অভিযোগে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। রাজ্যে পালাবদলের পরেও বোলপুর, লাভপুর ও নানুরের বিভিন্ন নদীঘাটে অবৈধভাবে বালি তোলার অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকী, এই কারবারে বিক্ষিপ্ত ভাবে বিজেপির নেতাকর্মীদের একাংশের যোগের অভিযোগও উঠেছে। তবে সেই অভিযোগগুলির সত্যতা প্রমাণিত নয়।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার কারণে এখন নিয়মিত বালি উত্তোলন বন্ধ। পুজোর পরে ফের বালি তোলা শুরু হতে পারে। তবে বিভিন্ন জায়গায় মজুত থাকা বালি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি, নিয়ম উপেক্ষা করে রাতের অন্ধকারে নদী থেকে বালি তোলার অভিযোগও রয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, এই কারবার বন্ধ করতে নদীঘাটগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হোক। বালি কারবার নিয়ে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, তৃণমূল সরকারের সময়ে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোটি কোটি টাকা লুট করেছে ওদের নেতারা। আমাদের সরকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। আইন মেনে বালির ব্যবসা করতে হবে। দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আটক করা ট্রাক্টরটি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বালি নিয়ে যাওয়ার বৈধ কাগজপত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পিছনে অন্য কোনো চক্র রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।