সংবাদদাতা, তপন: তপন চৌরঙ্গী এলাকায় টোটোর দৌরাত্ম্য। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা- যানজটে অতিষ্ঠ তপনের মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণহীন টোটোর দৌরাত্ম্যে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তপন চৌরঙ্গী থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে টোটোর আনাগোনা চলে। তপন-গঙ্গারামপুর, তপন-নালাগোলা, তপন-বালুরঘাট ভায়া দাঁড়ালহাট এবং তপন-বালুরঘাট ভায়া লস্করহাট- এই চার রুটে প্রতিদিন প্রায় দু’হাজার টোটো চলাচল করে। তার সঙ্গে প্রায় ২০টি বাসও যাতায়াত করে। সরু রাস্তায় এত যানবাহন একসঙ্গে নামায় স্বাভাবিকভাবেই প্রতিনিয়ত যানজট হচ্ছে। তারওপরে রাস্তায় টোটো দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা বা নামানোর কারণে সমস্যার মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
বাসস্ট্যান্ড চৌরঙ্গী থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে হলেও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে প্রবেশপথ। লকডাউনের পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় আর কোনও বাস বাসস্ট্যান্ডের ভিতরে প্রবেশ করে না। ফলে চৌরঙ্গী মোড়েই যাত্রী তোলে বাসগুলি। স্থানীয় বাসিন্দা মানসিং শেঠিয়া বলেন, অফিস টাইম থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চৌরঙ্গীতে যানজট লেগেই থাকে। বাসগুলি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ঢুকলে টোটোগুলিও ভিতরে যেত। এতে যানজট অনেকটাই কম হতো। টোটোচালক হরগোবিন্দ বর্মন বলেন, এখানে নির্দিষ্ট কোনও টোটোস্ট্যান্ড নেই। প্রশাসন স্ট্যান্ড তৈরি করলে সব টোটো সেখানে দাঁড়াত। এতে যানজটও কম হতো।
বাসমালিকদেরও ক্ষোভ তুঙ্গে। তপন বাস মালিক ইউনিয়নের সভাপতি বাপি লাহা বলেন, বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার মতো রাস্তার অবস্থা নেই। যেভাবে টোটোর সংখ্যা বাড়ছে, প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বাস চালানোই সম্ভব হবে না। টোটোচালকরা যাত্রীদের তুলে নিচ্ছে, ফলে বাসযাত্রীর সংখ্যা প্রতিদিন কমছে।
তবে টোটো ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সদস্য অমিত ঘোষ জানান, প্রশাসন সবার কথা ভেবে যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা তা মানতে রাজি।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ি হাইওয়ে ট্রাফিক ওসি প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যাটি সমাধান করা হবে। টোটোর দৌরাত্ম্যে যানজট।-নিজস্ব চিত্র