নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগ: বছরের প্রথমদিন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগের পিকনিক স্পটগুলি ভিড়ে ঠাসা ছিল। কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই বহু মানুষ বনভোজনের আনন্দ উপভোগ করে। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া সহ জঙ্গলমহলের বিভিন্ন জায়গায় ডিজের দাপট লক্ষ্য করা যায়।
এদিন বাঁকুড়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলি ভিড়ে পরিপূর্ণ ছিল। বছরের প্রথম দিনে ছুটি থাকায় ভ্রমণপিপাষুরা সকালেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। এদিন অনেকে পিকনিকও সারেন। মুকুটমণিপুর, শুশুনিয়া, বিহারীনাথ পাহাড় এলাকায় বহু পিকনিক পার্টি ভিড় জমায়। মন্দির নগরী বিষ্ণুপুরেও এদিন পর্যটক সমাগম হয়। বিষ্ণুপুর শহরের মন্দিরগুলিতে তিলধারণের জায়গা ছিল না। বিষ্ণুপুর মহকুমার নদনদী ও জঙ্গলে অনেকে পিকনিক করেন। জয়পুরের জঙ্গলেও অনেক ঘুরতে যান। সেইসঙ্গে বনভোজন সারেন। দামোদর নদ সংলগ্ন সোনামুখী, বড়জোড়া, মেজিয়াতেও বহু মানুষ পিকনিকে মেতে ওঠে। গত কয়েকদিনের মতো এদিনও বাঁকুড়ায় ঠান্ডা ভালোই ছিল। এদিন জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়ায় অনেকেই তা উপভোগ করেন। শীতের মিঠে রোদ গায়ে মেখে বাসিন্দারা আনন্দ উপভোগ করেন।
বাঁকুড়ার বাসিন্দা সন্দীপ গোস্বামী, ইন্দপুরের মধুমিতা পাত্র বলেন, আমরা এদিন মুকুটমণিপুর ও সুতানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। ভিন জেলার পাশাপাশি খাতড়া মহকুমার ব্লকগুলি থেকেও অনেকে পিকনিক করার জন্য মুকুটমণিপুরে পৌঁছন। খাতড়া মহকুমার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রেও এদিন ভালো ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। বছরের প্রথমদিন বৃহস্পতিবার জঙ্গলমহল পুরুলিয়া জেলায় পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ে। অযোধ্যা পাহাড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন জেলায় প্রায় এক লক্ষ পর্যটক সমাগম হয়েছে। তবে জেলার অযোধ্যা পাহাড়ে সব থেকে বেশি পর্যটকের দেখা মেলে। বনদপ্তরের তরফে জেলাজুড়ে কড়া নজরদারি রাখা হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা সহ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বনকর্মীরা বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ বলেন, জেলায় এদিন ব্যাপক ভিড় হয়। পিকনিকের ক্ষেত্রে জঙ্গল এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে রান্নায় নিষেধাজ্ঞা আগেই জারি করা হয়েছিল। এছাড়াও পিকনিক স্পটগুলি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপরও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
নতুন বছরকে স্বাগত জানালেন আরামবাগ মহকুমার বাসিন্দারাও। বুধবার বর্ষ বিদায়ের রাতে আরামবাগ শহরে বাজি ফাটতে শোনা যায়। বিভিন্ন জায়গায় রাতে পিকনিক করে যুব সম্প্রদায়। বৃহস্পতিবার পয়লা জানুয়ারিতে পিকনিকে মাতে বহু মানুষ। শীতের দাপট থাকলেও এদিন আরামবাগে ছিল রোদ ঝলমলে আকাশ। উষ্ণতা পেতে প্রকৃতির মাঝে পিকনিকের আসর বসে। আরামবাগ মহকুমার গড় মান্দারণ পর্যটন কেন্দ্রে এদিন অনেকেই পিকনিক সারেন। হুগলি জেলা পরিষদ সেখান থেকে এদিন বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৭৪ হাজার টাকা পার্কিং বাবদ আয় করেছে। খানাকুলের বিভিন্ন পিকনিক স্পটেও এদিন মানুষজন জমায়েত হয়। রান্নাবান্না করে জমিয়ে খাওয়া দাওয়া চলে। পিকনিক স্পটগুলিতে কচিকাঁচারা নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নদীর পাড়ে এদিন বক্স বাজিয়ে অনেকে পিকনিক করেন।
পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পুলিশি নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরুলিয়ায় কাঁসাই নদীর ধারে পিকনিক। -নিজস্ব চিত্র