Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বঞ্চনা মোদির, উজাড় করে দিলেন দিদি

কেন্দ্রের অপ্রাপ্তি মেটাল রাজ্য! বৃহস্পতিবার রাজ্যের বাজেটে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে একাধিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

বঞ্চনা মোদির, উজাড় করে দিলেন দিদি
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: কেন্দ্রের অপ্রাপ্তি মেটাল রাজ্য! বৃহস্পতিবার রাজ্যের বাজেটে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে একাধিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। মিটিংস, ইনসেনটিভস, কনফারেন্সেস অ্যান্ড এগজিবিশনস (এমআইসিই) ট্যুরিজমে জোর দেওয়া থেকে স্বর্গভূমি ও রাজভূমি সার্কিট গঠনের কথা উল্লেখ রয়েছে বাজেটে। এতে উচ্ছ্বসিত জোড়াফুল শিবিরের দাবি, এবার এই জনমুখী বাজেটেই ভোকাট্টা হবে ‘পদ্ম’। পাল্টা বাম ও গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এই ঘোষণা চমক ও ফাঁকা আওয়াজ। ভোটমুখী উত্তরবঙ্গে এনিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।

Advertisement

১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করে কেন্দ্র সরকার। তাতে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের বিকাশে কোনও দিশাই ছিল না বলে অভিযোগ। এজন্য সংশ্লিষ্ট বাজেটকে অপ্রাপ্তি ও বঞ্চনার বলে বিভিন্ন মহল অভিহিত করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্প নিয়ে মাস্টার স্ট্রোক দিল রাজ্যের মা-মাটি-মানুষের সরকার। রাজ্যের বাজেটে বাংলায় একাধিক পর্যটন সার্কিট গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যারমধ্যে দার্জিলিং, হিমালয় ও তরাই নিয়ে স্বর্গভূমি এবং উত্তরবঙ্গের সমতলভাগ কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদহ নিয়ে হেরিটেজ ও ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র। এনিয়ে পর্যটন ব্যবসায়ীরাও উচ্ছ্বসিত।

শিলিগুড়ির ট্যুর অপারেটার সম্রাট সান্যাল বলেন, শিলিগুড়ি, শৈলশহর দার্জিলিং, কালিম্পং ও ডুয়ার্স নিয়ে এমআইসিই পর্যটনে জোর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এমআইসিই’র অর্থ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে মিটিং, কনফারেন্সের পরিবেশ গড়ে তুলতে চাইছে রাজ্য। এবার আমাদের এই দাবি পূরণ হতে চলেছে। এতে বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা এখানে নিজেদের মিটিং করতে কিংবা হাইপ্রোফাইল পরিবারের বিয়ের আসর এখানে বসবে। এছাড়া পাহাড় ও তরাইয়ের দর্শনীয়স্থান, বৌদ্ধমঠ, ধর্মীয় ও তীর্থস্থান নিয়ে নয়া সার্কিট স্বর্গভূমি গড়া হচ্ছে। আর কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও মালদহে রাজ আমলে প্রচুর নির্দশন রয়েছে। সেইসব নিয়ে আরএকটি সার্কিট গঠন হবে। এতে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে আরও জোয়ার আসবে।

এদিকে, ভোটের মুখে রাজ্য সরকারের বাজেট নিয়ে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল কংগ্রেস। তারা বাজেটকে হাতিয়ার করেই পদ্ম শিবিরকে আক্রমণ শানাচ্ছে। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদা মানুষের জন্য ভাবেন। আমজনতার পাশে থাকেন। তাঁদের জন্য লড়াই করেন। রাজ্যের জনমুখী এই বাজেট থেকেই তা ফের একবার স্পষ্ট হল। এ ধরনের বাজেট করার ক্ষমতা লাগবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের। এখান থেকে ওদের নেতাদের শেখ উচিত। তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, এবার এই জনমুখী বাজেটের হাওয়াতেই তোর্সা, তিস্তা, মহানন্দা ও কালচিনির পার থেকে ভ্যানিস হবে পদ্ম।

এর পাল্টা সমালোচনা করেছে বিজেপিও। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের এমএলএ বিজেপির আনন্দময় বর্মন বলেন, গোটা রাজ্যের বাজেট ৪ লক্ষ কোটি টাকার। যারমধ্যে উত্তরবঙ্গের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ মাত্র ৯২০ কোটি টাকা। কাজেই কেন্দ্র নয়, রাজ্যের বাজেটেই বঞ্চিত উত্তরবঙ্গ। এবারও বিধানসভা ভোটে এর জাবাব পাবে তৃণমূল। রাজ্য সরকার পর্যটন শিল্প নিয়ে ফাঁকা আওয়াজ দিচ্ছে।

সিপিএমও বাজেট নিয়ে খুশি নয়। সিপিএমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠক বলেন, উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে রাজ্যের বাজেট তেমন দিশা দেখাতে দিতে পারছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ