নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: একদিকে নববর্ষকে বরণের আনন্দ আর অন্যদিকে হাতির আতঙ্কে গৃহবন্দি মানুষ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই দুই বিপ্রতীপ চিত্র দেখা গেল বিগত বছরের শেষ দিনে। কোথাও বিঘার পর বিঘা আলুর খেতে তাণ্ডব চালাল, তো কোথাও জঙ্গল সংলগ্ন মাটির বাড়িতে আক্রমণ করল হাতির দল। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই মুহূর্তে একশোর কাছাকাছি সংখ্যক হাতি অবস্থান করছে। বনদপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমানে মেদিনীপুর বনবিভাগ এলাকায় অবস্থান করছে প্রায় ৮০টির বেশি হাতি। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৫টি রেসিডেনশিয়াল হাতি রয়েছে। যারা সারা বছর এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও তুলনামূলকভাবে মানুষের ক্ষতি কম করে। বাকি হাতি নিয়ে আতঙ্কিত বহু গ্রামের মানুষ।
মেদিনীপুর বন বিভাগের ডিএফও দীপক এম অবশ্য জেলার মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। হাতির দল যাতে জঙ্গলের ভিতরেই অবস্থান করে, লোকালয়ে না আসতে পারে সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে। রাতে কুয়াশার জন্য জঙ্গলের ভিতর দৃশ্যমানতা কম থাকছে। তাই ড্রোনের সাহায্যেও নজরদারি চলছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় তিনটি বন বিভাগ রয়েছে। তার মধ্যে মেদিনীপুর বন বিভাগের এলাকায় ৮০টির বেশি হাতি রয়েছে। এছাড়া রূপনারায়ণ বন বিভাগ এলাকায় ৯টি হাতিকে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি খড়্গপুর বনবিভাগ এলাকায় ৫০টি হাতি রয়েছে। মেদিনীপুর বন বিভাগের চাঁদড়া, চাউলপুরা, আমগোবরা, আমাঝর্না, সুকনাখালি, ভাদুতলা, কারামারাশোল, আরাবাড়ি ভাঙাবাঁধ, টুংনি, নয়াবসত, হুমগড় এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন হাতির জন্য।
বন বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, ক্ষতির পরিমাণ সমীক্ষা করে নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। তবে কৃষকদের পরিশ্রম ও বিনিয়োগের প্রকৃত ক্ষতিপূরণ কখনওই সম্ভব নয়। এই হাতি নামেই দলমার দাঁতাল। এখন আর হাতিরা ওড়িশার দলমার জঙ্গলে ফিরে যায় না। সেখানে খাবারের অভাব। ফলে সারাবছর পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহল সংলগ্ন লোকালয়েই ঘোরাফেরা করে। গভীর জঙ্গলে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও রাতে ও ভোরে তারা মিষ্টি ফসলের সন্ধানে মাঠে নেমে পড়ছে। এদিন কথা হচ্ছিল মেদিনীপুর সদরের চাঁদড়া এলাকার বাসিন্দা সুদেব মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি বলেন, হাতির দল সারা বছরই থাকছে। রাতে বাড়ি থেকে বেরতে ভয় পায় মানুষ। ছোট ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ থাকে। হাতির সমস্যার সমাধান কবে হবে তা কেউ জানে না।-ফাইল চিত্র