নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শহরের বিভিন্ন রাস্তার ধারে যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে থাকছে। এমনকী শহরের একাংশ নালাও আবর্জনায় ভরতে শুরু করেছে। এছাড়াও একাধিক ওয়ার্ডে পুকুর পাড় এবং পরিত্যক্ত জমিতে আবর্জনার স্তূপ ক্রমশ বাড়ছে। ফলত ক্রমশ দূষণের মাত্রা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দিশাহারা সিউড়ি পুরসভা কর্তৃপক্ষ শহরকে সাফসুতরো রাখতে গিয়ে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছে। পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, একাধিক সময় শহরবাসীকে সচেতন করার পর এবার শহরকে সাফসুতরো রাখতে জরিমানার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে শুরুতেই শহরবাসীকে সতর্ক করতে পুরসভার তরফে শহরের ২৮ হাজার ৯১৭টি বাড়িতে লিফলেট বিলি করা হবে। পাশাপাশি ২০ হাজার বাড়িতে আবর্জনা পৃথকীকরণের জন্য বালতি পৌঁছে দেওয়া হবে। পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, একাধিক সময়ে শহরবাসীকে সচেতন করা হয়েছে। শহরকে সাফসুতরো রাখতে নাইট সার্ভিসও চালু করা হয়েছে। যদিও শহরবাসীর একাংশ এখনও সচেতন নন। এই পরিস্থিতিতে শহরকে সাফসুতরো রাখতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে এবার জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার আগে অবশ্য সকলকে সতর্ক করতে বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিলি করা হবে। এরপরও রাস্তা সহ ড্রেন কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে আবর্জনা ফেলার ঘটনা নজরে এলে জরিমানা করা হবে। শহর নোংরা করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এছাড়াও আবর্জনা পৃথকীকরণের জন্যে নতুন করে বাড়ি বাড়ি বালতি পৌঁছে দেওয়া হবে।
সিউড়ি পুরসভা এলাকায় মোট ২১টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ড পরিষ্কার রাখতে পুরকর্মীরা নিয়মিত সাফাই কাজ চালিয়ে যান। প্রতিদিনই নিয়ম করে শহরের প্রতিটি বাড়ি এবং দোকান থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করার কাজ চলে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে জমে থাকা আবর্জনাও সরিয়ে ফেলা হয়। যদিও দিনের বিভিন্ন সময় একাধিক ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেইসঙ্গে ড্রেনেও আবর্জনা ফেলার অভিযোগ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শহরের নিকাশি ব্যবস্থাও বেহাল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি পচনশীল ও অপচনশীল আবর্জনা একত্রে মিশিয়ে পুরসভার গাড়িতে তুলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমান সময়ে সেটা পুরসভা কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভা কর্তৃপক্ষ সচেতনতার পাঠ দিয়ে নতুন করে বাড়ি বাড়ি নীল ও সবুজ বালতি বিলি করতে চলেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, শহরের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দার বাড়িতে নীল ও সবুজ বালতি পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে, বছর কয়েক আগে শহরের একাংশ বাড়িতে আবর্জনা পৃথকীকরণের জন্য দু’টি করে বালতি দেওয়া হয়েছিল।
সৌমেন্দ্রনাথ দাস বলেন, সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে শহরকে সাফসুতরো রাখা সম্ভব নয়। বহুক্ষেত্রেই অনেকেই রাস্তার ধারে কিংবা ড্রেনে আবর্জনা ফেলেন। এসবের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক সময় বিপাকেও পড়তে হয়। এক্ষেত্রে শহরকে সাফসুতরো রাখতে পুরসভার তরফে জরিমানার সিদ্ধান্ত যথোপযুক্ত। আশা করছি, জরিমানার জুজু দেখিয়ে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, পচনশীল ও অপচনশীল আবর্জনা প্রসঙ্গে পুরসভার তরফে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।