নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রবি মরশুমে চাষিদের সুবিধার জন্য রাজ্য সরকার ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের মাধ্যমে চাষিদের অ্যাকাউন্টে টাকা দিচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে সেই টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলার ১১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৫৮৫ জন চাষির অ্যাকাউন্টে ২৮৪ কোটি ৫০ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা ঢুকেছে। ওই টাকায় অনেক চাষি কৃষিঋণ শোধ করছেন।
সোমবার পর্যন্ত টাকা ঢোকার নিরিখে রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছে মুর্শিদাবাদ। প্রথম স্থানে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। সেখানে ১৩ লক্ষ ২৮ হাজার কৃষকের অ্যাকাউন্টে ৩১৭ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা ঢুকেছে। তৃতীয় স্থানে আছে পশ্চিম মেদিনীপুর। মোট ১০ লক্ষ ৫৯ হাজার কৃষকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ২৮২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা।
২০১৯ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে চালু করেন ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে দু’টি কিস্তিতে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পাঠানো হয়। খরিফ মরশুমের টাকা কৃষকদের দেওয়া হয় এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে। রবি মরশুমের টাকা দেওয়া হয় অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে। পাশাপশি এই রাজ্যের ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কোনও কৃষকের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য দুই লক্ষ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশমতো জেলা কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা কৃষক বন্ধুর উপভোক্তাদের তালিকা আগেভাগে প্রস্তুত করে রাখেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। কৃষি দপ্তরের তৎপরতায় প্রতিবছর মুর্শিদাবাদ জেলায় কৃষক বন্ধু প্রাপকের সংখ্যা বাড়ছে। জেলা কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টাকা ঢোকা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ১১ লক্ষ ৯০ হাজার চাষির অ্যাকাউন্টে ২৮৪ কোটি টাকা ঢুকেছে। প্রতিদিনই টাকা ঢুকছে। রবি মরশুমের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন জেলার বহু চাষি। মুর্শিদাবাদের বহরমপুর, নবগ্রাম, কান্দি, হরিহরপাড়া, ডোমকল, সাগরদিঘি, ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, খড়গ্রাম সহ বিভিন্ন ব্লকে সম্প্রতি রবি মরশুমের চাষ শেষ হয়েছে। অনেকেই সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি খরচ জোগাড় করতে ধার করেছিলেন। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অর্থ পেয়ে তাঁরা এখন ঋণমুক্ত। বহরমপুর ব্লকের ভাকুড়ির চাষি মনোজ বিশ্বাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকল্পের আওতায় আসার পর থেকে আমাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। বছরে দু’বারে ১০ হাজার টাকা পাই। প্রতিনিয়ত চাষের খরচ বাড়ছে। ফলে কৃষক বন্ধুর টাকায় আমাদের চাষের খরচ জোগাড় করতে কিছুটা সুবিধা হচ্ছে। রানিনগর-২ ব্লকের মালবাড়ির চাষি বিপদভঞ্জন বিশ্বাস বলেন, রবি মরশুমে চাষের খরচের জন্য আমি পাঁচ হাজার টাকা পেয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেক ধন্যবাদ। এই ঢাকা পাওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। বহরমপুর ব্লকের মদনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নওদাপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল শেখ বলেন, আমি চলতি মরশুমে চাষের খরচ বাবদ দুই হাজার টাকা পেয়েছি। রাজ্য সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এই টাকায় বোরো চাষ করতে সুবিধা হবে।