নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ট্যাগ মুক্ত হচ্ছে না সার। আলুচাষের মরশুমে অনুখাদ্য সহ চাষিদের কিনতেই হচ্ছে সার। কৃষকদের অভিযোগ, অণুখাদ্য না নিলে বিভিন্ন অজুহাতে সার ব্যবসায়ীরা তাঁদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। অতিরিক্ত দাম নিলেও রসিদ দিচ্ছেন না। ব্যবসায়ীদের শর্ত মেনে সার কেনা ছাড়া চাষিদের উপায় নেই। কৃষিদপ্তর আচমকা পরিদর্শন করে কড়া পদক্ষেপ নিলে চাষিদের এই দুর্ভোগে পড়তে হতো না বলে তাঁদের দাবি।
মেমারির আলুচাষি শেখ সামাদ বলেন, ‘জমি তৈরি করার আগেই সার কিনে রাখতে হয়। অনেকে পুজোর আগে ১০:২৬ :২৬ কিনে রেখেছে। ভেবেছিলাম, এবার অনুখাদ্য ছাড়াই সার কিনতে পারব। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ব্যবসায়ী যে অনুখাদ্য দিচ্ছেন, তা আলুচাষের জন্য জরুরি নয়। তবুও বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।’
আর এক আলুচাষি রবি মণ্ডল বলেন, ‘বিগত পাঁচ সাত বছরের সারের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। তারপরে আবার অতিরিক্ত দাম দিয়ে অনুখাদ্য কিনতে হচ্ছে। এ বছর আলু চাষিদের ব্যাপক লোকসান হয়েছে। এই চাষ পুরোটাই অনিশ্চিত। এবারও লাভ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবুও কৃষকরা আশা নিয়ে চাষের প্রস্তুত নিচ্ছে। এখন অণুখাদ্য নিয়ে ৫০ কেজি ১০: ২৬: সার প্রায় ২৫০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। অথচ এবার ফ্রি বন্ড ১০০ টাকার নীচে বিক্রি হয়েছে।’
গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, ‘সার ব্যবসায়ীদের অনেকবার সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও আমার কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে। বিষয়টি নিয়ে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েকদিনের মধ্যেই কথা বলব। আমিও আচমকা বিভিন্ন দোকানে পরিদর্শনেযাব।’ কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, অনুখাদ্য বন্ধ করতে হলে কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। অনেক সার কোম্পানি ব্যবসায়ীদের অণুখাদ্য নিতে বাধ্য করছে। সেই কারণে তাঁরাও চাষিদের বিক্রি করছে। তবে, এটা নিয়ম নয়। কোনও চাষি নির্দিষ্টভাবে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কৃষকরা বলেন, চাষের সমস্ত সামগ্রীর দাম বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ফসলের দাম বাড়েনি। পূর্ব বর্ধমানের মেমারি, মন্তেশ্বর, জামালপুর ব্লকে সবথেকে বেশি আলু চাষ হয়। এই ব্লকগুলির সারের দোকানগুলিতে বাড়তি নজর দেওয়া উচিত। এই সমস্ত এলাকাগুলিতেই বেশি সার বিক্রি হয়। গত বছর লাগাতার অভিযান চালানোর ফলে কালোবাজারি অনেকটাই বন্ধ হয়েছিল। এবারও প্রথম থেকেই তেমনটাই করা উচিত। তা না হলে সারের দাম লাগামছাড়া হয়ে যাবে বলেই চাষিদের দাবি।



