পান্ডাপাড়ার কালিবাড়ি মন্দিরে মায়ের মূর্তি দাঁড়িয়ে নাগ-নাগিনীর লেজের উপর, দুই হাতে ধরা সাপ
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তারক চক্রবর্তী, জলপাইগুড়ি: এই কালী মূর্তির পায়ের নীচে মহাদেবের পরিবর্তে বিরাজ করে সাপ। নাগ ও নাগিনীর লেজের উপর মূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত। দেবীর দুই হাতে দু’টি সাপ। এই মূর্তির সঙ্গে পরিচিত কালীমূর্তির কোনো মিল নেই। এখানে প্রতিমার জিহ্বা অদৃশ্য। ঠোঁটের কোণ বেয়ে নেমে আসছে রক্ত ধারা। মূর্তির দুই পাশে ডাকিনী, যোগিনী। জলপাইগুড়ির পান্ডাপাড়া কালীবাড়িতে এই ভদ্রাকালী রূপে দীর্ঘদিন ধরে পূজিতা হয়ে আসছেন মা। কথিত আছে, বৈকুণ্ঠপুরের রাজা দর্পদেবের রাজত্বকাল ১৭৫৮-৯৩ সালের মধ্যে এই পুজো শুরু হয়। অন্য একটি মতে, কোচবিহারের মহারাজা রূপনারায়ণ ১৬৯৩ সালে এই পুজোর প্রচলন করেন। এই মন্দিরকে ঘিরে পান্ডাদের বসবাস শুরু হয়। সেই অনুসারে ওই এলাকার নাম পান্ডাপাড়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশ মনে করেন। যদিও বর্তমানে এই মন্দিরের দেখভাল করার দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় চক্রবর্তী পরিবার। তাঁরা প্রায় পাঁচ পুরুষ ধরে এই মন্দিরের দেখভাল করে আসছেন। বর্তমান বংশধরেরা এর ইতিহাস সম্পর্কে তেমন কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেন না। তবে তাঁদের একাংশ মনে করেন, তাঁদের পরিবারের কোনো এক সদস্যের স্বপ্নাদেশ থেকেই এই মূর্তি স্থাপিত হয় ও পূজো শুরু হয়। পরবর্তীকালে তা বারোয়ারী পুজো হিসেবে গণ্য হয়েছিল। 

Advertisement

নিত্য পূজোর পাশাপাশি এখানে দীপান্বিতা কালীপুজোর রাতে এই মন্দিরে পুজোর আয়োজন করা হয়। এ বছরও তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাত দশটায় পুজো শুরু হয়। এরপর সারারাত ব্যাপী পূজো চলে। বর্তমানে বলি প্রথা উঠে গিয়েছে। তবে বলিতে ইচ্ছুকদের নামে উৎসর্গ করা হয়। এই মন্দিরে মাকে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়। মায়ের অন্নভোগে থাকে পাঁচ রকমের ভাজা, সবজি, বোয়াল মাছ, চাটনি, লুচি, পায়েস, মিষ্টি। এছাড়াও থাকে নানান রকমের ফলমূল।
বর্তমানে এই মন্দিরের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, আমরা প্রতিবারের মতো এ বছরও মায়ের পুজোর আয়োজন করছি। আমাদের এই মন্দিরে মা ভদ্রাকালী রূপে পুজিত হন। সমস্ত নিয়ম নিষ্ঠার নীতি মেনে আমরা এবারও মায়ের আরাধনায় মাতব।