নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: স্বাস্থ্যসাথী কার্ড জোগাড় করার জন্য তৃণমূল জমানায় গ্রামে গ্রামে এজেন্ট নিয়োগ করেছিল একটি চক্র। তার বিনিময়ে তাদের মোটা টাকা কমিশন দেওয়া হত। কার্ডের মালিকরাও অল্প কমিশন পেতেন বলে অভিযোগ। রোগীদের খাতায় কলমে ভরতি দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিন বছর আগে বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যসাথী কার্ড উদ্ধার হয়েছিল। ওই নার্সিংহোম মালিকের মাথার উপর তৃণমূলের হাত থাকায় তদন্ত বেশি দূর এগোয়নি। পুলিশও হাত গুটিয়ে নিয়েছিল বলে অভিযোগ।
কীভাবে চলত এই চক্র? স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একশ্রেণির নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ এজেন্টদের মাধ্যমে কার্ড সংগ্রহ করত। সেই নথি এবং কার্ডের মালিকদের অ্যাকাউন্ট নম্বর তারা ব্যবহার করত। খাতায় কলমে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের গ্রাহককে নার্সিংহোমে ভরতি দেখাত। তাদের অপারেশন করা হয়েছে বলে বিল পাঠানো হত। কিন্তু, বাস্তবে সেটা হত না। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মালিক বাড়িতেই থাকতেন। সময়মতো তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যেত। পরে অবশ্য তৎকালীন সরকার বিষয়টি বুঝতে পেরে নিয়মে বেশকিছু পরিবর্তন এনেছিল। অপারেশনের আগে এবং পরের ছবি পাঠাতে হত। সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে টাকা আটকে দেওয়া হত। কিন্তু, তার আগেই একশ্রেণির নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ফায়দা তুলে নেয়।
অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক চিকিৎসক রাজীব পান্ডে বলেন, মাস গেলে একটি চক্র বিভিন্ন জেলার নার্সিংহোমগুলি থেকে টাকা তুলে নিয়ে যেত। কমিশন না দিলে টাকা আটকে দেওয়া হত। তাদের সঙ্গে বেশকিছু নার্সিংহোমের যোগসাজশ ছিল। নার্সিং হোমগুলি বেশি বিল দেখাত। সেটাও অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হত। সেই টাকার ৫০শতাংশ ওই চক্রকে দিয়ে দিতে হত। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের দুর্নীতির জাল বহুদূর ছড়িয়ে রয়েছে। অনেক রাঘববোয়াল এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, আমাদের মনে হয় স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে সবচেয়ে বড়ো দুর্নীতি বর্ধমানে হয়েছে। অপারেশন না করেই কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। তার প্রমাণ একটি নার্সিংহোমে পাওয়া যায়। সেখান থেকে বিপুল সংখ্যক কার্ড উদ্ধার হলেও পুলিশ সেই সময় কড়া পদক্ষেপ নেয়নি। স্বাস্থ্যসাথী দপ্তরের আধিকারিকদের কেউ কেউ যুক্ত ছিলেন। তাছাড়া এত বড়ো দুর্নীতি হতে পারে না। বর্ধমানের কয়েকটি নার্সিংহোমের ক্লেম নিয়েও তদন্ত হওয়া দরকার। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, সেই সময় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে জমা পড়েছিল। সেগুলি নিয়ে তদন্ত হয়। কিন্তু, অদৃশ্য কারণে তদন্ত বেশিদূর এগোয়নি। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দুর্নীতির অভিযোগে একটি নার্সিংহোম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।



