নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। গত বৃহস্পতিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বিজেপিকে খুশি করতে বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসার কাজ করছেন। আপনাদের নাম চিহ্নিত করে রাখা আছে। দু’বছর পর তাঁদের কী পরিণতি হয় দেখবেন। কেউ ছাড় পাবেন না। এপ্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অর্জুনবাবু বলেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক লক্ষ কোটি টাকার মালিক। ১৮০টা লোক রেখেছে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি নজরদারি করার জন্য। নিজে হতাশ হয়ে চন্দ্রনাথ রথকে খুন করিয়েছেন। এখন উনি হুমকি দিচ্ছেন, দু’বছর পর পুলিশ কর্মীদের দেখে নেবেন। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিলে আমি দু’ঘণ্টার মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে নিতে পারি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র খবরে ভেসে থাকার জন্য এই সব মন্তব্য করছেন।’
পরিবহণ মন্ত্রী কোনো রাখঢাক না রেখে চন্দ্রনাথ খুনে অভিষেকে দায়ী করায় রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবহণ মন্ত্রী যদি জানেনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চন্দ্রনাথকে খুন করিয়েছে তাহলে তাঁকে পুলিশ কেন গ্রেপ্তার করছে না?
কংগ্রেস নেতা দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী যখন জানেন তাহলে পুলিশ নিষ্ক্রিয় কেন? আসলে মানুষ সবই জানে কার কতজন আপ্তসহায়ক খুন হয়েছে। কেন তদন্ত সম্পূর্ণ হয়নি। হুমকি, পালটা হুমকির সংস্কৃতি তো থেকেই গেল। বাংলায় কিসের পরিবর্তন হল, সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাশু বলেন, অর্জুন সিংকে গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয়। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের ঠিক নেই। কখনো বিজেপি, কখনো তৃণমূল করেন। যে দলেই থাকেন অন্য দলের নেতাদের খুন করার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে।
চোরবাগানের বিপর্যয়ের পর কালীপুজো ও ছট পুজো নির্বিঘ্নে করতে মরিয়া বিজেপি সরকার। প্রতি জেলার উৎসব নিয়ে রিভিউ বৈঠক করা ও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার জন্য এক একজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার দায়িত্বে রয়েছেন অর্জুন সিং। শনিবার সার্কিট হাউসে অর্জুন সিং ছাড়াও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার সহ জেলার সব বিধায়ককে নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে জেলাশাসক পোন্নমবলম এস, পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার সহ জেলা প্রশাসনের সব শীর্ষকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এক একটি ছটঘাটে এক একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করবে রাজ্য। পাশাপাশি বিধায়ক, মন্ত্রী থেকে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা নজরদারি চালাবেন। ছটের জন্য পর্যাপ্ত জল, ঘাটে আলোর ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করা হয়। নদী বা জলে ডুবে যাতে কোনো বিপর্যয় না হয়, সেই বিষয়টিও দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রীরা।



