নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: জামতাড়া এখন অতীত। সাইবার প্রতারণার ঘাঁটি হিসেবে এখন দ্রুত উঠে আসছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার থাকা বিহারের রাজধানী পাটনা। মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার নাম করে ব্যবসায়ীদের মাথায় টুপি পরাতে সক্রিয় হয়েছে পাটনার সাইবার প্রতারকরা। এই গ্যাংয়ের নজর রয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুরের ব্যবসায়ীদের দিকেও। পুলিস একাধিক মামলার তদন্তে নেমে এই তথ্য পেয়েছে। ইতিমধ্যেই একটি মামলায় আসানসোল সাইবার থানার পুলিস এই গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে শুক্রবার রাতে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা মূলত পাটনার প্রতারকদের কথায় সাইবার প্রতারণার টাকা ঢোকাতে নিজেদের নামে খোলা অ্যাকাউন্টগুলি ভাড়া দিত। তার বদলে মিলত দু’শতাংশ কমিশন। পুলিস দ্রুত পাটনায় অভিযানে যাবে বলে জানা গিয়েছে। এসিপি বিশ্বজিৎ নস্কর বলেন, পাটনার একটি চক্র ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার নাম করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাইবার প্রতারণা করছে। আমরা এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি।
পুলিস জানিয়েছে, একটি নামী চশমা সংস্থার ফ্যাঞ্চাইজি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসানসোলের এক ব্যবসায়ীর কাছে ফোন আসে। সেই সংস্থার নামে বানানো একটি ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দেওয়া হয়। ওয়েবসাইটটি দেখে সাধারণ মানুষের বোঝার উপায় নেই তা ‘ফেক’। এবার ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশ মেনে ব্যবসায়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেন। বিভিন্ন ফি বাবদ টাকাও জমা করেন। অবিকল আসল সংস্থাটির আদলে বানানো ভুয়ো ইমেল আইডি থেকে তাঁকে টাকা জমা করার রসিদ পাঠানো হয়। এতে আসানসোলের ওই ব্যবসায়ীর ভরসা বাড়ে। ভালো জায়গায় নামী সংস্থার শোরুম হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে তিনি ১১লক্ষ টাকা দিয়ে দেন। তারপরই তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় প্রতারকরা। এরপরই তিনি আসানসোল সাইবার থানার দ্বারস্থ হন। পুলিস তদন্ত শুরু করে। যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছিল এবং যে সেগুলি নিয়ন্ত্রণ করছে, তা চিহ্নিত করে পুলিস। শুক্রবার রাতে পুলিস কলকাতায় অভিযান চালায়। সেখানে তারা দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ধৃতদের জেরা করে পুলিস বেশকিছু তথ্য পায়। এই ঘটনায় পাটনার দুষ্কৃতীরা জড়িত রয়েছে, সেবিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছে। এই সাইবার প্রতারকরা দেশজুড়ে এই প্রতারণার জাল ছড়াচ্ছে। নামী চশমা কোম্পানির ফ্র্যাঞ্চাইজি কিংবা রেস্তরাঁ খোলার টোপ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক হয়ে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিস।