Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অম্তঃসত্ত্বার মৃত্যুতে গাফিলতির অভিযোগ, নার্সকে মারধর রোগীর পরিজনদের

অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুতে চিকিত্সায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি অন্তঃসত্ত্বাকে চিকিত্সা না করে ডাক্তার ফোনে ব্যস্ত ছিলেন।

অম্তঃসত্ত্বার মৃত্যুতে গাফিলতির অভিযোগ, নার্সকে মারধর রোগীর পরিজনদের
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুতে চিকিত্সায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি অন্তঃসত্ত্বাকে চিকিত্সা না করে ডাক্তার ফোনে ব্যস্ত ছিলেন। অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর পরই বৃহস্পতিবার হুলুস্থুল কাণ্ড বেঁধে যায় হাসপাতাল চত্বরে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি কর্তব্যরত নার্সকে মারধর করা হয়েছে। মৃতার পরিবার-পরিজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় হাসপাতালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসতে হয় পুলিশকে। চিকিৎসায় কোনও গাফিলতির ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতাল সুপার জয়দেব রায়।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার দুপুরে কালিয়াগঞ্জের মাহিনগরের বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা তৃপ্তি সরকার দেবশর্মাকে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তৃপ্তির শ্বাসকষ্ট, পেট ব্যথা শুরু হলে চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু হয়। এরপরেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের লোকেরা। বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন ডাক্তার ও মৃতার পরিজনরা।
কালিয়াগঞ্জ থানায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন মৃতার স্বামী অংশুমান দেবশর্মা। তাঁর বক্তব্য,প্রসবের জন্য স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। কর্তব্যরত চিকিৎসক স্ত্রীর চিকিৎসা না করে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত ছিলেন। স্ত্রীর প্রচণ্ড ব্যথা উঠলে আমরা বারবার ডাক্তারকে ডাকি। কিন্তু ডাক্তার আমাদের কথা শোনেননি। চিকিৎসকের গাফিলতির কারণেই আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আমি পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি। 
অপরদিকে,গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। বলেছেন, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। গর্ভবতীর যা চিকিৎসা দরকার, সব করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ভুল অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতার পরিজনরা। হাসপাতালে চলে বিক্ষোভ। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি এক নার্সকে জুতো দিয়ে পেটানো হয় বলেও অভিযোগ। যদিও এই প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ এঁটেছেন মৃতার আত্মীয়রা। বিক্ষোভের খবর পেয়ে হাসপাতালে আসে কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হাসপাতাল সুপার জয়দেব রায় বলেন, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হচ্ছে। এবিষয়ে কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ