নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীমৃত্যুর জেরে মৃতের আত্মীয়রা তাণ্ডব চালাল। শনিবার রাতে হাসপাতালের তিনতলায় মহিলা বিভাগে এক রোগিণীর মৃত্যু হয়। তারপরই মৃতের আত্মীয়রা চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে অভব্য আচরণের পাশাপাশি মহিলা বিভাগের দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। গভীর রাতে এই বিশৃঙ্খলায় অন্য রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হাসপাতালের ক্যাম্পের পাশাপাশি বহরমপুর থানা থেকেও পুলিশ পৌঁছয়। পুলিশ ভাঙচুরের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, রোগীমৃত্যুতে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে চারজন হাসপাতালের ভিতরে ভাঙচুর চালিয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গেও ওরা অভব্য আচরণ করেছে। প্রথমে ওই চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে আমরা তাদের গ্রেফতার করি।
পুলিশ জানিয়েছে, বেলডাঙার বাসিন্দা নার্গিস বানু খাতুনকে(৫৫) শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছিল। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ওই রোগিণীর মৃত্যু হয়। সেই খবর পেয়েই তাঁর বাড়ির কয়েকজন লোক মহিলা ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ে। তারা চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে বচসায় জড়ায়। অভিযোগ, এরপরই তারা মহিলা বিভাগে ভাঙচুর শুরু করে। হাসপাতালের ক্যাম্প থেকে পুলিশকর্মীরা পৌঁছনোর আগেই দু’টি কাচের দরজা ভাঙচুর করা হয়। কাঠের চেয়ার ভাঙার পাশাপাশি ওয়ার্ডে থাকা কিছু জরুরি ওষুধও তারা নষ্ট করে দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পালিয়ে যান। ওয়ার্ডে থাকা অন্য রোগীরা অসহায় অবস্থায় চিৎকার করতে থাকেন। তাঁদের আত্মীয়রাও এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। পুরো হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অবশেষে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চারজনকে ঘটনাস্থল থেকেই পাকড়াও করা হয়।
হাসপাতালের সুপার অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, ওই রোগিণীর আত্মীয়রা উত্তেজিত হয়ে ঝামেলা শুরু করেছিল। চিকিৎসকরা ওদের ভালোভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু, মৃতের পাড়ার লোকজনও এসে ভাঙচুর চালিয়েছে। পুলিশ তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ করেছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।
এক রোগিণীর আত্মীয় বলেন, খুব আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই মৃতের আত্মীয়রা মারমুখী হয়ে উঠেছিল। আমরা কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। নিজেদের রোগীদের সুরক্ষিত রাখতে ছোটাছুটি করছিলাম। মহিলা ওয়ার্ডে নিরাপত্তার যদি এমন হাল হয়, তা হলে তো রোগী ভর্তি করার আগে আমাদের চিন্তা করতে হবে।
এর আগেও একাধিকবার মেডিকেলে চিকিৎসকদের উপর চড়াও হয়েছে রোগীর আত্মীয়রা। তারপরও মেডিকেলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি। শনিবার রাতে এতজন পুরুষ কীভাবে তিনতলায় উঠে মহিলা বিভাগে পৌঁছে গেল-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক রোগীর আত্মীয় বলেন, হাসপাতালে বেসরকারি সংস্থার নিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীরা এমনিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। কিন্তু, হাসপাতালে যখন বহিরাগতরা ঢুকে পড়ে, তখন তাদের দেখা পাওয়া যায় না। হাসপাতালে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হোক-শনিবারের ঘটনার পর এই দাবি জোরালো হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র