সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: নিয়ম, নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ক্লিনিক, প্যাথলজি ল্যাব ও নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে শিলিগুড়িতে অভিযানে নামল স্বাস্থ্যদপ্তর। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি শহরে এ ধরনের শতাধিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালান স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে একাধিক ডেন্টাল ক্লিনিক যেমন রয়েছে, ছিল প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি, পলিক্লিনিক। এ খবর চাউর হতেই শহরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মেডিক্যাল কলেজ এলাকার একাধিক প্যাথল্যাব সিলও করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ শহর ও সংলগ্ন এলাকায় বেশকিছু বড় নার্সিংহোম, ল্যাবের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অমানবিক কার্যকলাপের অভিযোগে তুলছে।
এদিন বেলা ১২টা নাগাদ শিলিগুড়ি শহরের আশ্রমপাড়ার পাকুরতলা মোড় থেকে এই অভিযান শুরু হয়। সেখানে একটি ডেন্টাল ক্লিনিককে শোকজ নোটিস ধরানো হয়। তারপর প্রধাননগর, চম্পাসারি, মাটিগাড়া, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন ক্লিনিক ও নার্সিংহোমে ডেপুটি সিএমওএইচ-১ ডাঃ নন্দদুলাল মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অভিযান চলে।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৭ জুলাই স্বাস্থ্যদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল এরকম ক্লিনিক ও নার্সিংহোমগুলি পরিদর্শন করে। তাতে দেখা যায়, এ ধরনের বহু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট মেনে চলছে না। অনেকের লাইসেন্সও নেই। তার ভিত্তিতেই তালিকা তৈরি করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ধরনের শতাধিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নাম সেই তালিকায় রয়েছে বলে দার্জিলিং জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই তালিকা ধরে এদিন সংশ্লিষ্ট জায়গায় গিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রেই শোকজ নোটিস দিয়ে আসা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক, ল্যাব কর্তৃপক্ষ বা মালিকপক্ষকে একমাস সময় দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ত্রুটি সংশোধন করে নিতে না পারলে তাঁদের ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ তুলসী প্রামাণিক বলেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমরা অনিয়মের বেশকিছু অভিযোগ পেয়েছিলাম। তার ভিত্তিতে আমাদের টিম পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পায় বহু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের জন্য আবেদনই করেনি। সরকারের কর ফাঁকি দিয়ে তারা রমরমিয়ে ব্যবসা করছে। আবার অনেকে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট মানছে না। তাই বলা হয়েছে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে। সবাই যেন ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট ও অন্যান্য আইন মেনে চলে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বন্ধও করে দেওয়া হতে পারে। একটি ক্লিনিকে নোটিস লাগানো হচ্ছে। - নিজস্ব চিত্র।