Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাসপোর্ট তৈরি হতো ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের ভিত্তিতেই! প্রাপকদের জিজ্ঞাসাবাদ পুলিসের

ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রকে হাতিয়ার করেই বানানো হতো পাসপোর্ট! সেই পাসপোর্টকেই নিজের পরিচয়পত্র হিসেবে দাবি করা হতো

পাসপোর্ট তৈরি হতো ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের ভিত্তিতেই! প্রাপকদের জিজ্ঞাসাবাদ পুলিসের
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রকে হাতিয়ার করেই বানানো হতো পাসপোর্ট! সেই পাসপোর্টকেই নিজের পরিচয়পত্র হিসেবে দাবি করা হতো। মূলত পরিযায়ী শ্রমিকরাই সেই পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্য দেশে কাজ করতে যেত। চাপড়ার হৃদয়পুর পঞ্চায়েত থেকে ইস্যু করা সমস্ত ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র প্রাপককে এবার জেরা করা শুরু করেছে পুলিস। পাসপোর্টের বিষয়টি সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, শুধুই পরিযায়ী শ্রমিক, নাকি মানব পাচার চক্রও এই ভুয়ো শংসাপত্র কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত? কারণ কাজ দেওয়ার নাম করে মানুষকে ভিনদেশে পাচার করে দেওয়ার ঘটনা নদীয়া জেলায় মাঝেমধ্যেই সামনে আসে‌। ইতিমধ্যেই প্রায় ১২জন জন্ম শংসাপত্র প্রাপককে জেরা করেছে পুলিস। বাকিদেরও ডেকে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, যারা জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করিয়েছিল, তাদের ডাকা হচ্ছে। তারা কী উদ্দেশ্যে এই ভুয়ো শংসাপত্র করিয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, বাইরে কাজে যাওয়ার জন্য ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের উপর ভিত্তি করে পাসপোর্ট বানাত তারা।
প্রসঙ্গত, নদীয়া জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকের সমস্যা নতুন নয়। প্রতি বছর বহু মানুষ আরব, কাতার সহ বিভিন্ন দেশে কাজে যায়। সেখানে গিয়ে তাদের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফ থেকে যাবতীয় পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়ে সেখানেই বছরের পর বছর শ্রমিকদের রেখে দেওয়া হয়। কাজ দেওয়ার নামে উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলিতে মানব পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। তার জন্য দালালরা টাকার বিনিময়ে শ্রমিকের পাসপোর্ট সহ যাবতীয় নথিপত্র বানিয়ে দেয়। হৃদয়পুরের জাল জন্ম শংসাপত্র কাণ্ডে এবার পাসপোর্ট ইস্যু করানোর যোগ পাওয়া গিয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে তদন্তকারী অফিসাররা বিগত এক বছরে ইস্যু হওয়া জন্ম শংসাপত্র সিটিজেন পোর্টাল থেকে নামাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে পুলিস যাদের ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র হাতে পেয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে অধিকাংশেরই দাবি, পাসপোর্ট ইস্যু করার জন্যই তারা এই শংসাপত্র বানিয়েছে। একদিনের মধ্যেই নাকি সেই শংসাপত্র হাতে পাওয়া যেত।
উল্লেখ্য, চাপড়ার হৃদয়পুর পঞ্চায়েতে এক বছরে এক হাজারের বেশি জাল জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করার ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিস ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। যারমধ্যে রয়েছে চক্রের মূল মাথা তথা হৃদয়পুর পঞ্চায়েতের ডেটাএন্ট্রি অপারেটার আশিস কর্মকার। এছাড়া, বেশ কয়েকটি সাইবার ক্যাফের মালিক, পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যার স্বামী ও হাঁসখালির এক পঞ্চায়েত সহায়ক ধরা পড়েছে। এরাই মূলত পার্টি জোগাড় করার কাজ করত। 
তারপর তারা মোটা টাকার বিনিময়ে সিটিজেন পোর্টালের মাধ্যমে পার্টির নন-ইনস্টিটিউশনাল জন্ম শংসাপত্রের জন্য আবেদন করাত। সেই সমস্ত আবেদনপত্র যাচাই না করেই আশিস কর্মকার তা ইস্যু করে দিত। তার জন্য মোটা টাকার কমিশনও পেত সে। এমনকী, বিগত এক বছর ধরে পর্যাপ্ত নথি ছাড়াই ভিনজেলার বাসিন্দাদেরও এইভাবে জন্ম শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। এরকম নন-ইনস্টিটিউশনাল ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের সংখ্যা ১১২৯টি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ