Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপ-মায়াপুর ফেরিঘাটের যাত্রীদের নৌকায় শেডের দাবি

নৌকায় নেই কোনও ছাউনি। বৃষ্টি নামলেই ভিজতে হয় যাত্রীদের

নবদ্বীপ-মায়াপুর ফেরিঘাটের যাত্রীদের নৌকায় শেডের দাবি
  • ১৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নৌকায় নেই কোনও ছাউনি। বৃষ্টি নামলেই ভিজতে হয় যাত্রীদের। আর মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে বন্ধ রাখতে হয় নবদ্বীপ, মায়াপুর এবং স্বরূপগঞ্জ ঘাটের মধ্যে নৌকা পরিষেবা। চরম সমস্যায় পড়তে হয় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে মায়াপুর, নবদ্বীপে ঘুরতে আসা পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের। ছাউনি না থাকায় বৃষ্টির জল জমে যায় নৌকার ভিতরেই। তখন যাত্রী ও জলের ভারে বেসামাল হয়ে ওঠে নৌকা। তৎক্ষণাৎ নৌকার জমা জল ফেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মাঝি। তারপরে শুরু হয় নৌকা চলাচল। নৌকার ইঞ্জিনে বৃষ্টির জল ঢুকে গেলে আরও বিপদ। আধ ঘণ্টা মুষলধারে বৃষ্টি হলে ১৫মিনিট কিংবা তারও বেশি সময় বন্ধ থাকে খেয়া পরিষেবা। এহেন অবস্থায় যাত্রীদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অবিলম্বে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি নৌকায় ছাউনির ব্যবস্থা করা হোক। 

Advertisement

ফেরিঘাট সূত্রে জানা গিয়েছে, নবদ্বীপ, মায়াপুর এবং স্বরূপগঞ্জ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নৌকায় ভাগীরথী পারাপার করেন। কেউ নবদ্বীপ থেকে মায়াপুরে ইসকন চন্দ্রোদয় মন্দির দেখতে যান। কেউ আবার মায়াপুর থেকে নবদ্বীপে বিভিন্ন মঠ-মন্দির দর্শনে আসেন। মায়াপুর থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার নির্মাণ শ্রমিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে নবদ্বীপে আসেন। অনেকেই স্বরূপগঞ্জ রেলবাজার ঘাট ও মায়াপুর হুলোর ঘাটের মধ্যে যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা স্বরূপগঞ্জ ঘাট পার হয়ে নবদ্বীপে যাওয়া-আসা করেন। আবার নবদ্বীপ থেকে অনেকেই নদী পার হয়ে ব্লক অফিস, কৃষ্ণনগর প্রশাসনিক ভবনে যান। প্রতিদিন তিনটি ঘাট দিয়ে প্রায় ৩০হাজার মানুষ পারাপার করেন। নৌকায় ছাউনি না থাকায় বর্ষায় কখনও তাঁরা ভিজছেন। কখনও বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। স্কুল, কলেজ কিংবা কাজের জায়গায় সময়ে পৌঁছতে পারছেন না। আবার গ্রীষ্মের প্রখর রোদেও তেতে-পুড়ে যান যাত্রীরা।
চরব্রহ্মনগরের বাসিন্দা রিচিতা দেবনাথ বলেন, আমি এবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছি। প্রতিদিনই নদী পেরিয়ে নবদ্বীপে স্কুলে এবং গৃহশিক্ষকের কাছে যেতে হতো। নৌকায় থাকাকালীন বৃষ্টি নামলে ব্যাগ, বই, খাতা সব ভিজে যেত। ডঙ্কাপাড়ার বাসিন্দা আজিজুল সেখ বলেন, মায়াপুর, বামুনপুকুর, শোনডাঙা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ নবদ্বীপে কাজের সন্ধানে যান। ছাউনি না থাকায় বৃষ্টি নামলে কাকভেজা হতে হয়। অনেকের কাছেই ছাতা থাকে না। তাঁদের অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থেকে ভিজতে হয়। মুষলধারে বৃষ্টি নামলে নৌকা বন্ধ থাকে। তখন প্রতিটি ঘাটে অসংখ্য মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। চরমাজদিয়ার বাসিন্দা সুগম সূত্রধর বলেন, ব্যবসার কাজে প্রতিদিনই ভাগীরথী পার হয়ে নবদ্বীপে যেতে হয়। নৌকায় শেড না থাকায় এই বর্ষার সময়ে বৃষ্টি নামলে খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সম্পাদক সুশান্ত হালদার বলেন, ছাউনি হলে যাত্রীদের সুবিধা হবে। যাত্রী সুরক্ষা ও পরিষেবার কথা ভেবে নৌকায় শেড লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের। আগামী দিনে 
জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনার 
মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে 
পারে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ