নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তখন চাল এক টাকা কেজি। সেই সময় বড়নীলপুরে নববধূ হয়ে এসেছিলেন পাবর্তী পণ্ডিত। এখন তাঁর বয়স ৭৫ বছর। সমাজের অনেক পরিবর্তন দেখেছেন। দিন বদল হয়েছে। কিন্তু পেশা বদল করেননি তিনি। সেই সময় থেকেই মাটির তৈরি সামগ্রী বিক্রি করছেন। দীপাবলির সময়ে বেশি প্রদীপ বিক্রি করেন। সমাজের আঁধার দূর করে চারদিক আলোয় উদ্ভাসিত করতে চান তিনি। নিজের ঘরে অর্থনৈতিক আঁধার রয়েছে। কোনও রকমে সংসার চালান। তারপরও তিনি চান, চারদিকে গাঢ হয়ে থাকা অন্ধকার দূর হোক। তা না হলে সমাজ বাঁচবে না। বাড়ির সামনেই পার্বতীদেবীর দোকান রয়েছে। দোকান বলতে কোনও ছাউনি ছাড়াই রাস্তার পাশে প্রদীপ, ধুনুচি সহ মাটির সামগ্রী সাজানো থাকে। স্বামী মারা গিয়েছেন। দুই ছেলে রয়েছে। তেমন তাঁদের আয় নেই। পাবর্তীদেবীর আয়ে সংসারের খরচ অনেকটাই উঠে আসে। স্বামী আগে এই পেশায় ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর সেই ব্যবসার হাল ধরেছেন পার্বতী। কোনও দিন ১০০ আবার কোনও দিন ৩০০ টাকা আয় হয়। পার্বতীদেবীর আক্ষেপ, আগে কালীপুজোর সময়ে আয় বেশি হতো। এখন অনেকে মাটির প্রদীপ কেনেন না। প্লাসটিক সামগ্রী দিয়ে তৈরি ইলেকট্রিকের প্রদীপ অনেকে ব্যবহার করেন। কিন্তু তাতে অন্ধকার দূর হয় না। মাটির প্রদীপ ছাড়া দীপাবলির রাত আলোকিত হয় না। পার্বতীদেবী একা ব্যবসা সামলান। এখন তিনি নিজে মাটির প্রদীপ, ধুনুচি বা অন্য সামগ্রী তৈরি করতে পারেন না। পাণ্ডুয়া থেকে একজন দিয়ে যান। তিনি অল্প লাভ রেখে তা বিক্রি করেন। ৫ থেকে ১০ টাকা দামের প্রদীপ তাঁর কাছে রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, এক সময় মাটির প্রদীপের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। এখন চীনা প্রদীপ বাজার দখল করেছে। এ ধরনের সামগ্রী বহু বছর ব্যবহার করা যায়। কিন্তু মাটির প্রদীপ একবারের পর সাধারণত ব্যবহার করা যায় না। যদিও এক শ্রেণির মানুষ এখনও মাটির প্রদীপের উপরই ভরসা করেন। সেই কারণেই এখনও পার্বতীদেবী প্রদীপ বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ব্যবসা বদল করবে না। আর কয়েকটা দিন বাঁচবে। ততদিন প্রদীপ বিক্রি করে যাবে। এখন সমাজে ঘটে যাওয়া নানা অপরাধমূলক ঘটনা দেখে মন খারাপ হয়। বিশেষ করে মহিলাদের উপর অত্যাচার বেড়েই চলছে। এই রোগ সমাজের গভীরে। প্রদীপ হাতে আলো নিয়ে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই সমাজ সুস্থ হবে। পার্বতীদেবীর দোকানের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন অনুপ দাস। তিনি বলেন, পার্বতীদেবীর ভাবনার প্রশংসা করতেই হয়। আলো না জ্বাললে অন্ধকার দূর হবে কী করে।



