সংবাদদাতা মালদহ: এক সময় রাজ্যে কংগ্রেস রাজনীতির ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল মালদহ। বামফ্রন্ট সরকারের আমলেও মালদহে কংগ্রেসের রাজনৈতিক আধিপত্য ছিল প্রশ্নাতীত। অথচ নিজেদের রাজনৈতিক দুর্গ মালদহে এখন কংগ্রেসের রাজনৈতিক দাপট ক্রমশ স্তিমিত। কখনও কখনও বিচ্ছিন্নভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করলেও জেলায় যে দলের রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রায় তলানিতে পৌঁছছে, তা স্বীকার করছেন দলের নেতা-কর্মীরাও। আজ, বুধবার কয়েক দফা দাবি নিয়ে জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে কংগ্রেসের। কিন্তু তাতে মালদহে কার্যত ঝিমিয়ে পড়া কংগ্রেসের পায়ের তলার রাজনৈতিক মাটি কতটা শক্ত হবে, তা নিয়ে সন্দিহান দলের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ। বাড়তি বিদ্যুৎ বিল, গঙ্গা ভাঙন রোধের সুনিশ্চিতকরণ, চাকরিহারা শিক্ষক, শিক্ষিকাদের পুনর্বহাল ও ওয়াকফ বিলের প্রত্যাহারের দাবি সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বুধবার জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে জেলা কংগ্রেস। কিন্তু দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। মালদহের মতো জেলায় কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা শূন্য। সাংসদ রয়েছেন একজন। জেলার ত্রিস্তর পঞ্চায়েতেও কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব কার্যত নামমাত্র। এমন অবস্থায় কখনও সামান্য সময়ের জন্য রাস্তা অবরোধ বা স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি মালদহে কংগ্রেসকে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে দলের একাংশ নেতা-কর্মীদেরই। জেলা কংগ্রেসের ছাত্র ও যুব সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এক তরুণ নেতা বলেন, আমরা রীতিমতো হতাশ। দু’একজন দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। বেশিরভাগই হাল ছেড়ে দিয়েছেন। যাঁরা কংগ্রেসের হয়ে সত্যিই কাজ করতে চান, তাঁরাও উৎসাহ হারাচ্ছেন। এভাবে চললে গত বিধানসভায় মালদহে দলের শূন্য হয়ে যাওয়ার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা হচ্ছে।



