নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রাতের অন্ধকারে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পাম্প হাউসের বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ভেঙে তামার কয়েল এবং যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ উঠল দুবরাজপুরে। এর ফলে ব্লকের তিনটি গ্রামে জল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওই গ্রামগুলিতে জল আসেনি। চরম বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তে নেমেছে দুবরাজপুর থানার পুলিশ।
দুবরাজপুরের হেতমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গড়গড়া গ্রামের শাল নদীর ধারে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পাম্প হাউসটি রয়েছে। ওই পাম্প হাউস থেকেই গড়গড়া, হেতমপুর এবং কেন্দুলা গ্রামে জল সরবরাহ করা হয়। পাম্প হাউসের অদূরে ইলেকট্রিক পোল রয়েছে। সেখান থেকেই ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি গিয়েছে।
ওই পাম্পের অপারেটর রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত আমরা দু’জন ডিউটিতে ছিলাম। তারপর বাড়ি চলে যায়। এদিন ভোর ৫টার সময় পাম্প চালাতে এসে দেখি কারেন্ট নেই। তারপর ইলেকট্রিক পোস্টের কাছে দেখি ট্রান্সফরমারটি নিচে নামানো। কেবল খোলটা পড়ে রযেছে। ভিতরের যন্ত্রাংশ কিছুই নেই। সব চুরি করে নিয়ে পালিয়েছে। এরপরেই বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানাই।
স্থানীয়দের অনুমান সোমবার গভীর রাতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গড়গড়া গ্রামের বাসিন্দা কাঞ্চন পাল বলেন, অপারেটররা এসে জানান পাম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গিয়েছে। এসে দেখি শুরুমাত্র ট্রান্সফরমারের খোলটা পড়ে রয়েছে। এরকম চুরি জীবনে দেখিনি। হেতমপুর গ্রামের বাসিন্দা সাধন বাগদি জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই গ্রামে জল আসেনি। ফলে সমস্যাগ পড়েছেন বাসিন্দারা। নতুন ট্রান্সফরমার না লাগানো পর্যন্ত জল আসবে না। আমরা দ্রুত নতুন ট্রান্সফর্মার লাগানোর দাবি জানাচ্ছি। এই ঘটনায় দুবরাজপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খবর দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তরেও।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের দাবি, এই কাজ কারও একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। নিশ্চয় কোনও গ্যাং এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে, হেতমপুর, গড়গড়া এবং কেন্দুলা গ্রামে পানীয় জলের পরিষেবা যাতে দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেই দাবি তুলেছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা। এদিন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিকদের ফোন করে দ্রুত জল সরবরাহের দাবি জানান তিনি।