Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

প্রতি ঘরে পানীয় জল পৌঁছোনোর প্রকল্পে পর্যাপ্ত বরাদ্দ হচ্ছে না, কেন্দ্রকে তোপ সংসদীয় কমিটির

সব ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার স্লোগানের লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। যতটা উচ্চকিত প্রচার, সেই তুলনায় প্রকল্প রূপায়ণের উদ্যোগ শিথিল।

প্রতি ঘরে পানীয় জল পৌঁছোনোর প্রকল্পে পর্যাপ্ত বরাদ্দ হচ্ছে না, কেন্দ্রকে তোপ সংসদীয় কমিটির
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: সব ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার স্লোগানের লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। যতটা উচ্চকিত প্রচার, সেই তুলনায় প্রকল্প রূপায়ণের উদ্যোগ শিথিল। কারণ, পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না হওয়া। আবাসন ও নগরবিষয়ক মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্টে সরকারকে কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়েছে, অবিলম্বে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হোক অমৃত প্রকল্পে। বিশেষ করে পানীয় জল সরবরাহ কর্মসূচিতে।

Advertisement

অমৃত প্রকল্প মোদি সরকার চালু করলেও সেটির ভিত্তি ছিল ইউপিএ সরকারের আমলের একটি কমিটির স্থির করে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা। হাই পাওয়ার্ড এক্সপার্ট কমিটি ২০১১ সালে স্থির করেছিল, দেশে জল সরবরাহ পরিকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে ২০ বছরের জন্য ৩ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ও ব্যয় করতে হবে। পাশাপাশি সাড়ে ৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ হবে অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। সেই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখেই তৈরি হয়েছিল কয়েক বছর পর অমৃত-১ এবং পরে অমৃত-২ প্রকল্প। প্রথম দফার অমৃত প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ব্যয় হয়েছে ৩৮ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। অমৃত প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৪২২ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়। কিন্তু ব্যয় হয়েছে ৬৯ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ ৬১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২৬ সাল আগতপ্রায় যখন, তখনও পর্যন্ত অর্ধেক ব্যয় হয়েছে। এই প্রকল্প ২০৩১ সালে সমাপ্ত হওয়ার কথা। সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির বক্তব্য, এখনই যদি দ্রুত বরাদ্দ এবং ব্যয় শুরু না হয়, তাহলে অমৃত প্রকল্প সমাপ্ত হবে না। এমনকি অপারেশন অ্যান্ড মেনটেন্যান্স বাবদ ১ লক্ষ ৭৩ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত করার কথা ছিল। কিন্তু  পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে মাত্র ২১ হাজার কোটি টাকার। সংসদীয় কমিটি বলেছে, রাজ্যগুলি এই প্রকল্প রূপায়িত করতে উদগ্রীব, তারা পরিকাঠামো নির্মাণও করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না যথাযথ। ফলে যে পরিকাঠামো তৈরি হয়ে রয়েছে, সেটি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। যা আগামী দিনে ক্রমেই দুর্বল হবে। যখন প্রকৃত কাজ শুরু হবে, তখন দেখা যাবে আবার নতুন করে সেই একই পরিকাঠামো গড়তে হচ্ছে। যা পুনরায় আর্থিক বোঝা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ