Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ষবরণে সমুদ্রে আতশবাজির রোশনাই সান্তাবুড়োর উপহারে দীঘা হবে ‘পার্কস্ট্রিট’

বড়দিন ও নিউ ইয়ার উপলক্ষ্যে বদলে যাচ্ছে দীঘা। এলইডি আলোয় মুড়ে ফেলা হচ্ছে দীঘাকে।

বর্ষবরণে সমুদ্রে আতশবাজির রোশনাই সান্তাবুড়োর উপহারে দীঘা হবে ‘পার্কস্ট্রিট’
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বড়দিন ও নিউ ইয়ার উপলক্ষ্যে বদলে যাচ্ছে দীঘা। এলইডি আলোয় মুড়ে ফেলা হচ্ছে দীঘাকে। নিউ ইয়ারকে স্বাগত জানাতে সমুদ্রে ভাসমান লঞ্চ থেকে আতশবাজির বিশেষ প্রদর্শনী থাকবে। ওল্ড দীঘা এবং নিউ দীঘার সি-বিচ থেকে সেই দৃশ্য উপভোগ করবেন হাজার হাজার পর্যটক। ৩০ ও ৩১ডিসেম্বর বিশ্ববাংলা উদ্যানে সাংস্কৃতিক বিনোদনের আয়োজনও থাকছে। বড়দিনে উপহারের ডালি নিয়ে দীঘায় ঘুরে বেড়াবেন একাধিক সান্তাবুড়ো। ২৩ডিসেম্বর থেকে ১০জানুয়ারি পর্যন্ত এলইডি ফ্লাড লাইট ও চেন লাইটের মোহময়ী রূপ ধরা পড়বে দীঘার সি-বিচ এবং জগন্নাথ মন্দিরে। এই প্রথম রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর বড়দিন থেকে নিউ ইয়ার পর্যন্ত দীঘাকে সুন্দরভাবে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রত্যেক হোটেল কর্তৃপক্ষকেও এই কাজে শামিল হওয়ার নির্দেশ পাঠান হয়েছে। তারাও হোটেল, গেস্টহাউস ও রিসর্টগুলি আলোয় সাজিয়ে তুলবে। পাশাপাশি, আতশবাজির রোশনাইয়ে ২০২৬সালকে স্বাগত জানান হবে।

Advertisement


শনিবার পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের স্পেশাল সেক্রেটারি পূর্ণেন্দু মাজী দীঘায় এসে এনিয়ে পরপর মিটিং করেন। সি-বিচ এবং জগন্নাথ মন্দির এলাকা ঘুরে দেখেন। বড়দিনে দীঘাকে কলকাতার পার্কস্ট্রিটের মতো আকর্ষণীয় আলোকসাজে সজ্জিত করা হবে। তারই প্রস্তুতি মিটিং সেরে নেন। ওল্ড দীঘা এবং নিউ দীঘায় সমুদ্রের উপর ভাসমান লঞ্চ থেকে আতশবাজির প্রদর্শনী হবে। ৩১তারিখ রাত ১২টার আগে আতশবাজি পোড়ানো শুরু হবে। চলবে রাত দেড়টা পর্যন্ত। ওল্ড দীঘার বিশ্ববাংলা উদ্যান-১, রেলস্টেশন ঘাট থেকে পুলিশ হলিডে হোম ঘাট পর্যন্ত সর্বত্র এলইডি ফ্লাড লাইট ও চেন লাইট সহ নানা রকমের আলোকমালায় সেজে উঠবে। এছাড়াও, রংবেরঙের আলোয় জগন্নাথ মন্দিরের ভিতর সাজিয়ে তোলা হবে। ২৩ডিসেম্বর থেকে ১০জানুয়ারি পর্যন্ত দীঘা এরকম উৎসবমুখর থাকবে।


স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই দীঘায় ভিড় উপচে পড়ছে। বড়দিন থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দীঘায় জমজমাট ভিড় থাকে। বর্ষবরণে গোটা রাজ্যের নজর যাতে দীঘার দিকে থাকে, তেমনই পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য। বড়দিনে ওল্ড দীঘা এবং নিউ দীঘায় ১০-১২জন সান্টাবুড়ো উপহারের ডালি নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন। শিশুদের হাতে চকোলেট তুলে দেবেন। বড়দিন থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দীঘায় বুকিংয়ে বেশ সাড়া পড়েছে। সুযোগ বুঝে এইসময় অনেক হোটেল দর বাড়িয়ে দেয়। এমনটা করা যাবে না বলে হোটেল মালিক সংগঠনের কর্মকর্তাদের সাফ জানিয়েছেন পূর্ণেন্দুবাবু। অনেকেই আগেভাগে বুকিং সেরে ফেলছেন। গত ২৫জুন থেকে সকাল ৭টার পাঁশকুড়া-দীঘা স্পেশাল ট্রেনটি এখনও চলছে। পর্যটকদের অনেকেই দীঘা যাওয়ার জন্য এই ট্রেন বেছে নেন। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে ট্রেনের নতুন টাইম টেবিল প্রকাশিত হবে। পর্যটক থেকে হোটেল ব্যবসায়ী ও নিত্যযাত্রীদের দাবি, ওই স্পেশাল ট্রেনটিকে স্থায়ী করা হোক। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্ত পাত্র বলেন, প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দীঘায় প্রচুর পর্যটক আসেন। মুখ্যমন্ত্রী সুন্দরভাবে দীঘাকে সাজিয়েছেন। জগন্নাথ মন্দির উপহার দিয়েছেন। ডিএসডিএ এবং সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ