Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সোনালির বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে বাবা-মা, খুশিতে টগমগ আনিশা

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে শুক্রবার রাতে দেশের মাটি ভারতে ফিরলেন সোনালি বিবি ও তাঁর নাবালক ছেলে। আজ, শনিবার বীরভূমের পাইকরের জন্মভিটেই তাঁরা ফিরবেন।

সোনালির বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে বাবা-মা, খুশিতে টগমগ আনিশা
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে শুক্রবার রাতে দেশের মাটি ভারতে ফিরলেন সোনালি বিবি ও তাঁর নাবালক ছেলে। আজ, শনিবার বীরভূমের পাইকরের জন্মভিটেই তাঁরা ফিরবেন। প্রায় ছ’মাস অপেক্ষার পর মেয়ে দেশে ফেরায় খুশি বাবা ভোদু শেখ ও মা জোৎস্না বিবি। মা আসার খবর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা সোনালির ছ’বছরের মেয়ে আনিশা। সে পাড়ায় দৌড়ে চিৎকার করে সবাইকে জানাচ্ছে, আমার মা আসছে।

Advertisement

সোনালির আসার খবর চাউর হতেই পাইকরের দর্জিপাড়ায় সোনালির বাবার বাড়িতে ভিড় জমান স্থানীয় মানুষজন। পুলিশ, প্রশাসন ও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকরা আসা যাওয়া করতে থাকেন। মেয়ে যুদ্ধ জয় করে বাড়ি ফেরায় খুশি সোনালির বাবা ভোদু শেখ। তিনি বলেন, এতদিন পর মেয়ে বাড়ি ফিরছে, আনন্দে চোখে জল চলে আসছে। নাতনিটাও মায়ের জন্য ছটফট করছিল। সেও খুশি। শুনছি রাতে মালদহে থাকবে। সকালে বাড়ি ফিরবে। সোনালির মা জ্যোৎস্না বিবি বলেন, গর্ভবতী অবস্থায় মেয়ে পরদেশে কতই না শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছে। খুবই চিন্তা হচ্ছিল। আজ সেই চিন্তা দূর হল। মেয়েকে আনতে প্রতিবেশী সোয়েব আলি শনিবার সকালে মালদহে যাবে। 
বিএমওএইচ অনিরুদ্ধ বিশ্বাস বলেন, বর্ডারে মফিজুল শেখ নামে একজনের হাতে সোনালিদের দেওয়া হয়েছে। সোনালি বিবিকে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় মালদহ মেডিকেলে কলেজে। সেখানে স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর আজ শনিবার পাইকর আসবে। যেহেতু সে গর্ভবতী তাই সমস্ত রকম পরীক্ষা করা হবে। পাইকর হাসপাতালে প্রসূতি বিশেযজ্ঞ নেই। তাই যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে রামপুরহাট মেডিকেলে স্থানান্তরিত করা হবে। 
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন দিল্লি পুলিস ভারতীয় নাগরিককের প্রমাণপত্র যাচাই না করেই সোনালি সহ দুই পরিবারের ছয় সদস্যকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করে। আদালতের নির্দেশে অবশেষে আজ তারা বাংলাদেশ থেকে মালদহে ফেরে। রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম বলেন, যারা এই দুঃসময়ে পাশে ছিল তাদের প্রত্যেকের জয় হয়েছে। 
বিশেষ করে ধন্যবাদ জানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যাদের নির্দেশে আমি সবসময় পরিবারের পাশে ছিলাম। গোটা ভারতবর্ষের মানুষ দেখল বৈধ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্র কীভাবে বাংলাদেশি বলে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে অত্যাচার চালাল। এর জবাব বাংলার মানুষ দেবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ