Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে আধাসেনা? পূর্ব কলকাতার জলাভূমি মামলায় হুঁশিয়ারি ক্ষুব্ধ হাইকোর্টের

কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে গজিয়ে ওঠা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার হুঁশিয়ারি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার এ সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।

বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে আধাসেনা? পূর্ব কলকাতার জলাভূমি মামলায় হুঁশিয়ারি ক্ষুব্ধ হাইকোর্টের
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে গজিয়ে ওঠা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার হুঁশিয়ারি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার এ সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। 

Advertisement

‘কলকাতার কিডনি’ হিসেবে পরিচিত পূর্ব কলকাতা জলভূমি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই জলাভূমি এলাকায় ৫০০-র বেশি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। জলাভূমি ভরাট করে ওই সব নির্মাণ মাথা তুলেছে বলে অভিযোগ। এর আগে এই মামলার একাধিক শুনানি হয় বিচারপতি সিনহার এজলাসে। বেআইনি নির্মাণ ঠেকাতে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আগেও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। আদালতের নির্দেশ ছিল, পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ওই সব বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে হবে সংশ্লিষ্ট পুরসভাকে। কিন্তু নির্দেশ কার্যকর তো দূরের কথা, এখনও একাধিক বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিতই করা যায়নি বলে অভিযোগ। যে কারণে সোমবার রাজ্য সরকার ও পুর কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তাঁর স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, রাজ্য না পারলে কেন্দ্রের সাহায্য চাওয়া হবে। আধাসেনা মোতায়েন রেখে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হবে। 
এদিন শুনানিতে পূর্ব কলকাতা জলাভূমি কর্তৃপক্ষ একটি রিপোর্ট জমা দেয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকও একটি রিপোর্ট জমা দেন। তা দেখে রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি সিনহা। বলেন, ‘বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। অথচ একের পর এক রিপোর্ট জমা পড়ছে। আমি আর রিপোর্ট দেখতে চাই না। আমি দেখতে চাই, আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ হয়েছে।’ বারবার নির্দেশের পরও কেন রাজ্য ও পুরসভা কোনো পদক্ষেপ করছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পূর্ব কলকাতা জলাভূমি কর্তৃপক্ষের তরফে আইনজীবী সোনাল সিনহা জানান, চৌবাগা সহ কয়েকটি জায়গায় বেআইনি নির্মাণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পুর কর্তৃপক্ষের তরফে কেউ হাজির ছিলেন না। এমনকি, এ বিষয়ে জেলাশাসককে বহুবার জানানো হয়েছে বলেও সওয়াল করেন তিনি। তিনি আরও দাবি করেন, একাধিকবার বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গিয়ে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে আধিকারিকদের। এরপরই বিচারপতি সিনহার পর্যবেক্ষণ, ‘রাজ্য যদি আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে না পারে, তবে কেন্দ্রের সহযোগিতা নেওয়া হবে।’ তারপরই এই মামলায় কেন্দ্রকে যুক্ত করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। আগামী ১৬ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি। 
হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আমাদের আমলে কোনো জলাভূমি ভরাট হয়নি। যা হয়েছে, সবটাই বাম আমলে। আমরা অভিযোগ পেলেই পদক্ষেপ করি। সম্প্রতি ওই অঞ্চলে তিন থেকে চারটি পাঁচিল তোলার অভিযোগ এসেছিল। সেগুলি আমরা ভেঙে দিয়ে এসেছি।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ