নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রাজ্য সরকার যখন সরকারি সুযোগ সুবিধে মানুষের দরজায় পৌঁছে দিতে চাইছে, তখন সরকারি কর্মীরা কি মানুষের সমস্যা মেটাতে আদৌ আগ্রহী? এ প্রশ্ন উঠছে হাঁসখালির এক শয্যাশায়ী বৃদ্ধার বার্ধক্য ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে। প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ তাঁর বার্ধক্য ভাতা। তাঁর প্রতিবেশীরা বার বার ব্লক অফিসের দ্বারস্থ হয়েও সমস্যা মেটাতে পারেননি। সম্প্রতি বৃদ্ধা অভিযোগপত্র পাঠিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযোগ পাঠিয়েছেন নদীয়ার জেলাশাসককেও।
নদীয়ার হাঁসখালি ব্লকের ময়ূরহাটের সত্তরোর্ধ্ব বীণা সাঁতরার তিনকুলে প্রায় কেউই নেই। পাড়া-প্রতিবেশীরাই তাঁর পরিজন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছিলেন। রয়েছে পেনশনের কার্ড। তিনি অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে দিন গুজরান করতেন। সম্প্রতি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পুরোপুরি শয্যাশায়ী। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো আচমকাই ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর বার্ধক্য ভাতা। নিজে উঠতে না পারায় প্রতিবেশীদের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন, সমস্যার কথা ব্লকের অফিসে গিয়ে বলতে। কিন্তু ব্লক অফিস থেকে নাকি স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাঁর সমস্যা তিনি না এলে সমাধান হবে না। অথচ বীণাদেবীর পক্ষে বিডিও অফিস পর্যন্ত যাওয়া সম্ভবই নয়। ফলে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ তাঁর পেনশন। চরম অর্থাভাবে জর্জরিত ওই বৃদ্ধা প্রতিবেশীদের মারফত প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার চেষ্টা করলেও কেউই তাঁর পেনশন ফের চালু করতে উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়েই বৃদ্ধা দ্বারস্থ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর এবং নদীয়ার জেলাশাসকের। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ পত্র পাঠিয়েছেন হাঁসখালি ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তরেও। বৃদ্ধা জানান, আমি শয্যাশায়ী। কোনওভাবেই আমার পক্ষে ব্লক অফিস পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব নয়। তাঁরা যদি আমার বাড়িতে এসে আমার পরিস্থিতি দেখে যেতেন তাহলেই বুঝতে পারতেন। আমি চাই প্রশাসন উপযুক্ত পদক্ষেপ নিক। কারণ বার্ধক্য ভাতার ওই ১০০০ টাকাই আমার সম্বল। এই মুহূর্তে কোনও রোজগার না থাকায় চরম আর্থিক সঙ্কটে দিন কাটছে আমার। এদিকে, একদিকে যখন রাজ্য সরকার পাড়ায় পাড়ায় সমাধান, দুয়ারে সরকারের মতো বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে তৎপর, তখন স্রেফ ব্লক অফিসের গড়িমসির কারণেই দেড় বছর ধরে একাকী ওই বৃদ্ধা পেনশন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হাঁসখালি ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সায়ন্তন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, অবশ্যই আমি এই বৃদ্ধার বিষয়টি খতিয়ে দেখব। যদি কোনও কারণে ভাতা বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে তা যাতে পুনরায় চালু হয় সেই ব্যবস্থা করা হবে। আমি খোঁজখবর করতে বলছি।