দিল্লি: একরত্তি ছেলের সামনে মাকে নির্মমভাবে মারধর করেছিল বাবা! চুলের মুঠি ধরে গালে পর পর চড়। তার পরে মায়ের গায়ে কিছু একটা ঢেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সে কথাই বলছিল ছ’বছরের শিশুটি। তার বর্ণনা শুনে রীতিমতো বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে উপস্থিত লোকজন। শিউরে ওঠেন পুলিসকর্মীরা। নয়ডার পণের জন্য বধূকে খুনের অভিযোগের তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শী ছ’বছরের শিশুর এই বক্তব্যই এই মুহূর্তে সবথেকে বড় প্রমাণ তদন্তকারীদের।
দাবি মতো বাপের বাড়ির লোকজন পণের ৩৬ লক্ষ টাকা দিতে পারেনি। যে কারণে বধূকে জ্বলন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে গুণধর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি গ্রেটার নয়ডার। পুলিস মৃতার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। সেই মূল অভিযুক্ত বলে তদন্তকারীদের দাবি। এছাড়া মামলা দায়ের হয়েছে শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওরের বিরুদ্ধে।
গত ২০১৬ সালে সিরসার বাসিন্দা বিপিনের সঙ্গে বিয়ে হয় নিক্কির। গত বৃহস্পতিবার রাতে নিক্কিকে দগ্ধ অবস্থায় গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁর অবস্থা সঙ্কট জনক ছিল। আরও ভালো চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে নিক্কিকে রেফার করা হয় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে। কিন্তু রাস্তাতেই মৃত্যু হয় ওই তরুণীর। এর পরে পুলিসের দ্বারস্থ হন নিক্কির বড়দি কাঞ্চন। অভিযোগ করেন, মারধর করে তাঁর বোনের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিপিন।
কাঞ্চন আরও জানান, বিয়ের সময় পণ হিসেব তাঁর বোনকে ব্র্যান্ডেড এসইউভি এবং দামি সব জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছিল। তার পরেও নিক্কির শ্বশুরবাড়ির চাহিদা মেটেনি। তারা ৩৫ লক্ষ টাকা দাবি করছিল। তা না দেওয়ায় নিক্কিকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধর করত।