Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাইবার প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা খোয়ালেন পাঁশকুড়ার যুবক

নামী কেকের দোকানের ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য অনলাইনে আবেদন করে আট লক্ষ ৬০হাজার টাকা সাইবার প্রতারণার শিকার হলেন পাঁশকুড়ার এক যুবক।

সাইবার প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে সাড়ে  ৮ লক্ষ টাকা খোয়ালেন পাঁশকুড়ার যুবক
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নামী কেকের দোকানের ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য অনলাইনে আবেদন করে আট লক্ষ ৬০হাজার টাকা সাইবার প্রতারণার শিকার হলেন পাঁশকুড়ার এক যুবক। পাঁশকুড়া থানার বনমালীপুর গ্রামের অমলকুমার মাইতি স্নাতক পাশ করার পর চাকরির পরীক্ষায় বসে সফল হননি। রোজগারের জন্য ডেবরার লোয়াদা বাজারে নামী ব্র্যান্ডের কেকের দোকান করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু, সাইবার প্রতারকরা নকল ওয়েবসাইট বানিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল তা তিনি বুঝরে পারেননি। ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার নামে দফায় দফায় প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা তাঁর কাছ থেকে হাতানো হয়। গত ১০এপ্রিল তিনি পাঁশকুড়া থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।

Advertisement

পাঁশকুড়া থানার আইসি সমর দে বলেন, নামী ব্র্যান্ডের কেকের দোকানের ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৭জানুয়ারি অমলবাবু ফ্র্যাঞ্চাইজি পেতে অনলাইনে আবেদন করেন। সপ্তাহ ঘুরতেই তিনি ফোন পান। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে কথা এগতেই তিনি ভীষণ আশাবাদী হয়ে পড়েন। কলেজ ছাড়ার পর থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য একাধিক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, বারবার ব্যর্থতার কানাগলিতে আটকে পড়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে রোজগারের একটা ব্যবস্থা হবে জেনে আশার আলো দেখছিলেন। কিন্তু, প্রতারকরা তাঁকে শিকার বানিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতানো শুরু করে। অভিযুক্তরা ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার নামে শর্ত চাপায়। রেজিস্ট্রেশন ফি, লাইসেন্স ফি, সিকিউরিটি ডিপোজিট বাবদ দফায় দফায় টাকা দাবি করে। এভাবে ৩১জানুয়ারি অমলবাবু ২৫হাজার ৬০০টাকা দেন। ১ফেব্রুয়ারি আরও ১ লক্ষ ৭৫হাজার টাকা ট্রান্সফার করেন। ৪ফেব্রুয়ারি দু’লক্ষ ১৫হাজার টাকা দিয়ে দেন। ৫তারিখ দু’দফায় এক লক্ষ টাকা এবং তিন লক্ষ ৪৫হাজার টাকা দেন। এভাবে দফায় দফায় তিনি মোট আট লক্ষ ৬০হাজার ৬০০টাকা দিয়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার নামে প্রতারকদের টাকা চাওয়ার ফোন এখনও বন্ধ হয়নি। নানা অজুহাতে টাকা চাওয়া চলছেই। প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন বুঝতে পেরে অমলবাবু আপাতত টাকা দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে(এনসিআরপি) অভিযোগ জানানোর পর তিনি পাঁশকুড়া থানায় গিয়ে এফআইআরও করেছেন।
এর আগে রামনগর এবং কাঁথিতেও নামী কেক এবং বেকারির ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের শেখপুরা জেলায় কয়েকজন যুবক ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ফ্রড’-এর সঙ্গে যুক্ত। তারা কেক ও বেকারি, পিৎজা কিংবা সিমেন্টের ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়ার নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট বানিয়ে প্রতারণার জাল বিছিয়ে রেখেছে। গুগল সার্চে গিয়ে ওই ভুয়ো ওয়েবসাইটে ঢুকলেই বিপদ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এরকম বিভিন্ন থানায় ১০-১২টি এফআইআর হয়েছে। দেড় মাস আগে শেখপুরা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করার পর ধৃত যুবককে পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন কেসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পাঁশকুড়ার প্রতারণার শিকার ওই যুবক বলেন, আমি স্নাতক পাশ করার পর বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় বসেছি। কিন্তু, সফল হইনি। তাই একটি ব্যবসা করার পরিকল্পনা থেকেই কেক দোকানের ফ্র্যাঞ্চাইজি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তাতে জমানো টাকা এবং ঋণ বাবদ মোট ৮লক্ষ ৬০হাজার খুইয়ে এখন পথে বসার মতো অবস্থা। খোয়া যাওয়া টাকা যাতে ফেরত পাই, সেজন্য পাঁশকুড়া থানার দ্বারস্থ হয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ