নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: শুক্রবার পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মা ক্যান্টিন থেকে খাবার নিতে বালতি, গামলা নিয়ে হাজির হলেন অনেকেই। এক-একজন পাঁচ-ছ’জনের খাবার সংগ্রহ করছেন। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কুপন সংগ্রহের সময় বিরাট লাইন পড়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় ৫টাকায় ডাল, সবজি, ডিম ও ভাত জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে পুরসভা। গত বুধবার ওই পরিষেবার সূচনা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত পুরসভা কোনও সংস্থাকে কাজের বরাত দিয়ে উঠতে পারেনি। তারমধ্যে খাবার সংগ্রহ করার জন্য হিড়িক পড়েছে পাঁশকুড়ায়। বালতি, গামলা নিয়ে অনেকেই খাবার জোগাড় করতে ভিড় জমাচ্ছেন।
পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার কৌশিক ধল বলেন, আমাদের এই এলাকাটি অর্থনৈতিকভাবে একটু পিছিয়ে পড়া। যেকারণে সাধারণ গরিব মানুষ, টোটো চালক এবং ছোটখাট দোকানদাররাও খাবার সংগ্রহ করছেন। আমরা দৈনিক আড়াইশোর বেশি কুপন দিতে পারব না বলে জানিয়েছি। পুরসভা থেকে এই কাজের বরাত এখনও কাউকে দেওয়া হয়নি। সুডা থেকেই গোটা কর্মসূচি দেখভাল করা হবে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর বাড়ির লোকজনের মুখে সস্তায় খাবার তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার মা ক্যান্টিন পরিষেবা চালু করেছে।
আগে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে এই পরিষেবা চালু হয়। ধীরে ধীরে মহকুমা ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও এই পরিষেবা চালু হচ্ছে। বুধবার পাঁশকুড়া পুরপ্রশাসক তথা তমলুকের মহকুমা শাসক দিব্যেন্দু মজুমদার ওই হাসপাতালে মা ক্যান্টিন পরিষেবা চালু করেন। সেদিন থেকেই ৫টা মূল্যের ডাল, ভাত, সব্জি ও ডিমের রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, গত দু’দিন কুপন কাটার ভিড় দেখে অনেকেই চমকে গিয়েছেন।
শুক্রবার এক প্রৌঢ় বালতি নিয়ে পাঁচজনের খাবার সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়ান। আরও কয়েকজন মহিলা গামলা নিয়ে আসেন। জানা গিয়েছে, বাড়িতে রান্না বন্ধ রেখে স্থানীয়রা পাঁচ টাকার খাবার সংগ্রহ করছেন। এর ফলে রোগীর বাড়ির লোকজন কতটা সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। তবে, দৈনিক আড়াইশোর বেশি কুপন দেওয়া হবে না বলে হাসপাতাল এবং পুরসভা কর্তৃপক্ষ ঠিক করেছে। বালতি, গামলা নিয়ে মা ক্যান্টিনের সামনে লাইনে দাঁড়ানোর দৃশ্য দেখে কেউ কেউ মুচকি হাসেন। বাড়িতে রান্না বন্ধ রেখে এখন হাসপাতাল থেকে পাঁচ টাকার খাবার জোগাড় করার হিড়িক পড়ে গিয়েছে।-নিজস্ব চিত্র