Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টিতে ভাসল পাঁশকুড়া স্টেশন বাজার সব্জি নষ্ট হওয়ায় মাথায় হাত বিক্রেতাদের

ভারী বৃষ্টিতে ভাসল পাঁশকুড়া স্টেশনের সব্জি বাজার। সোমবার সকাল থেকেই বাজারে দেড় ফুট উঁচু জল জমে যায়।

বৃষ্টিতে ভাসল পাঁশকুড়া স্টেশন বাজার সব্জি নষ্ট হওয়ায় মাথায় হাত বিক্রেতাদের
  • ৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভারী বৃষ্টিতে ভাসল পাঁশকুড়া স্টেশনের সব্জি বাজার। সোমবার সকাল থেকেই বাজারে দেড় ফুট উঁচু জল জমে যায়। গাজর, পটল, ঢ্যাঁড়শ সেই জলে ভেসে যাচ্ছিল। চাষিরা কোনওরকমে সেসব আগলে উঁচু ঢালাই রাস্তার উপর জড়ো করেন। সব্জি রাখার ক্রেট উল্টে কেউ কেউ তার উপর কচু রেখে বসে পড়েছিলেন। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকেই সব্জি বিক্রেতারা বাজারে চলে আসেন। এদিনও তাই এসেছিলেন। সে সময়ে নাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছিল। বেহাল নিকাশির জেরে এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত জল জমে যায়। সেই জলে ভেসে যাওয়া সব্জি আটকাতে নাজহাল হতে হয় বিক্রেতাদের।উল্লেখ্য, পাঁশকুড়া স্টেশন সব্জি বাজার থেকে প্রতি বছর জেলা পরিষদ এক কোটি টাকা লেভি আদায় করে। আগামী তিন বছর লেভি আদায়ের জন্য এজেন্সি নিয়োগ করতে ১৬ জুলাই নিলাম ডেকেছে জেলা পরিষদ। প্রথম বছরের জন্য ৮৯ লক্ষ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা বেস প্রাইস রাখা হয়েছে। তার উপর নিলাম হবে। পরবর্তী দুই বছর মোট অর্থরাশির উপর পাঁচ শতাংশ মূল্য বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, যে বাজার থেকে বছরে কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয় তার পরিকাঠামো এমন বেহাল কেন? নিকাশি থেকে পানীয় জল, শৌচালয় সবই বেহাল। বৃষ্টি হলেই জল থই থই করে বাজার। সব্জি নষ্ট হয়। জলযন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে কয়েকজন ব্য‌বসায়ী গোডাউন উঁচু করেছিলেন। এদিন সকালে সেই উঁচু গোডাউনেও জল ঢুকে যায়।

Advertisement

পাঁশকুড়া স্টেশন সব্জি বাজারের এই অবস্থার জন্য এদিন ব্যবসায়ীরা একযোগে বেহাল নিকাশিকে দায়ী করেন। এই বাজার পুর এলাকার মধ্যে পড়লেও লেভি আদায় করে জেলা পরিষদ। এর ফলে বাজারের পরিকাঠামোর দিকে পুরসভা ঠিকমতো নজর দেয় না বলে ব্যবসায়ীদের অনেকে অভিযোগ করেন। পাঁশকুড়া কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মানিকলাল দে বলেন, বৃষ্টি হলেই বাজারে জল জমে যায়। তাতে আনাজপাতি, আলু, পেঁয়াজ, আদা সব ভেসে যায়। বৃষ্টির জলে সেসব দ্রুত নষ্টও হয়। এছাড়াও গোডাউনে জল জমে মজুত সব্জি নষ্ট হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। অথচ বাজার থেকে বছরে এক কোটি টাকা লেভি আদায় হয়। তাহলে পরিকাঠামোর দিকে নজর দেওয়া হবে না কেন? পাঁশকুড়া পুরসভার প্রক্তন কাউন্সিলার তথা স্থানীয় বাসিন্দা কল্যাণ রায় বলেন, নিকাশি ব্যবস্থা দিকে নজর দিলে এই পরিস্থিতি হতো না। সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখি, জলে থই থই করছে গোটা বাজার। সব্জির ঝুড়ি উল্টে তার উপর বসে রয়েছেন বিক্রেতা। জলে ভেসে যাওয়া পটল, ঢ্যাড়শ আটকানোর চেষ্টা করছেন। সকাল ১০টা সাড়ে ১০টা নাগাদ জমা জল নামে।  পাঁশকুড়া পুর প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্র বলেন, এবার বর্ষার আগে নিকাশির কাজ হয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে সাময়িক জল জমে। তারপর সেই জল নেমে যায়।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ