নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ১৭কোটি ৮৬লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাঁশকুড়ার জানাবাড় বাইপাস থেকে যশোড়া কালীবাজার পর্যন্ত প্রায় ২২কিলোমিটার রাস্তা মেরামত হবে। ১৯আগস্ট ডব্লুবিএসআরডিএ ওই কাজের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে পাঁশকুড়ার গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত। পিচ-পাথর উঠে গিয়ে তাতে বৃষ্টির জল জমে রাস্তার দফারফা অবস্থা। প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। গাড়ি উল্টে পড়ছে। কংসাবতী থেকে দেদার বালিবোঝাই লরির চাপে রাস্তা এত খারাপ বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। এই মুহূর্তে প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় কবে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তা সংস্কার শুরু হবে তানিয়ে স্থানীয়দের কৌতূহলের শেষ নেই।
ডব্লুবিএসআরডিএর তমলুক ডিভিশনের এগজিকিটিভ ইঞ্জিনিয়ার মোনহর হোসেন বলেন, জানাবাড় বাইপাস থেকে যশোড়া পর্যন্ত প্রায় ২২কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার হবে। ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। দু’-একদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।
জাতীয় সড়কে জানাবাড় বাইপাস থেকে যশোড়া গুরুত্বপূর্ণ ২২কিলোমিটার মাইসোরা পঞ্চায়েতের লাইফ লাইন। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষজন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা বেহাল থাকায় নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ যাত্রীরা ভীষণ অসুবিধায় মুখোমুখি হন। শ্যামসুন্দর পাটনা, পাটনা ও মাংলই গ্রামের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে ছাত্রছাত্রীরা যাতায়াত করতে গিয়ে ভীষণ সমস্যায় পড়েন।
কংসাবতী নদী থেকে বালি তোলার পর সারি সারি লরি ও ডাম্পার ওই রাস্তা বরাবর জাতীয় সড়কে গিয়ে ওঠে। এর ফলে গ্রামের ভিতর ওই পিচ রাস্তা দ্রুত খারাপ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে সেই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। অবিলম্বে বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে গত রবিবার মাইসোরা বাজারে পথসভা হয়। এর আগে রাধাবল্লভপুরে পথ অবরোধও হয়। কিন্তু, রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। রাস্তা মেরামতের খবরে স্বাভাবিকভাবেই খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।
মাইসোরার বাসিন্দা তথা প্রয়াত তৃণমূল নেতা কুরবান শা-র দাদা আফজল শা বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু, কংসাবতী নদী থেকে বালি তুলে দেদার লরি ও ডাম্পার নিয়ে যাতায়াতের ফলে রাস্তা খারাপ হয়ে পড়েছে। যথেচ্ছ ওভারলোডেড গাড়িও চলে। আমরা রাস্তা মেরামতের দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় দরবার করেছি। আন্দোলনও করেছি। শেষমেশ ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু হওয়ায় আশার আলো দেখা গেল।-নিজস্ব চিত্র