শ্রীকান্ত পড়্যা, পাঁশকুড়া: ব্যারাজের ছাড়া জল ও বৃষ্টিতে ফের বন্যার ভ্রুকুটি পাঁশকুড়ায়। মুকুটমণিপুর, তারাফেনি সহ তিনটি জলাধার থেকে ৩০হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। সেই জল পাঁশকুড়ার কংসাবতী নদীতে পড়ছে। এছাড়া গত তিনদিনে ভারী বৃষ্টি জেরে বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার জল কংসাবতী নদী দিয়ে বইছে। মঙ্গলবারই কংসাবতীতে জলস্তর বিপদসীমা পার করে যায়। বুধবার জলস্তর আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ। পাঁশকুড়ায় সেচদপ্তরের অফিসে ক্যাম্প করে নজরদারি শুরু হয়েছে। নদীবাঁধ বরাবর ২৯টি জায়গায় মাটির বস্তা জড়ো করা হয়েছে। পাঁচটি জেনারেটর গাড়িতে তুলে রাতেও নদীবাঁধে নজরদারি শুরু হয়েছে।
দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রত সরকার, অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা সেই ক্যাম্পে থেকে ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে শামিল হয়েছেন। বুধবার বিকেলে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী পাঁশকুড়ায় সেচদপ্তরের ওই ক্যাম্প অফিস ভিজিট করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। জেলাশাসক বলেন, কংসাবতী নদীতে জলস্তর বিপদসীমা ছুঁলেও উদ্বেগের কিছু নেই। সেচদপ্তর সবরকম পদক্ষেপ নিচ্ছে।
পাঁশকুড়ার সদরঘাট ব্রিজ সংলগ্ন কারবালা ময়দানের অনেকটাই জলের তলায়। স্থানীয় ডোমপাড়ায় কয়েকজনের বাড়িতেও জল ঢুকেছে। পাঁশকুড়া থানা সংলগ্ন কংসাবতীতে নদীবাঁধের ধারে মিটার গেজ রয়েছে। নদীর জলস্তর কী অবস্থায় রয়েছে সেখান থেকেই হিসেব করা হয়। বুধবার সকাল থেকে সেখানে লোকজন ভিড় জমান। ওই এলাকায় নদীবাঁধ বরাবর সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে মাটির বস্তা ফেলে উঁচু করা হয়েছে। নদীতে জলস্তর বাড়লেও যাতে বাঁধ উপচে জল শহরে ঢুকতে না পারে সেজন্য মাটিভর্তি বস্তা ফেলে উঁচু করা হয়েছে। কংসাবতী নদীবাঁধ বরাবর বিভিন্ন জায়গায় এভাবে মাটির বস্তা ফেলা হয়েছে।২০২৪সালে পাঁশকুড়ার ১৫নম্বর ওয়ার্ডে গড়পুরুষোত্তমপুর ও ১৮নম্বর ওয়ার্ডে জন্দড়া এলাকায় কংসাবতী নদীবাঁধ ভেঙেছিল। বছর ঘুরতেই ফের কংসাবতীতে জলস্তর ফুলেফেঁপে ওঠায় আবার বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার পাঁশকুড়া পুরপ্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপার্সন নন্দকুমার মিশ্র ওই দুই এলাকা পরিদর্শনে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেন। জন্দড়া এলাকার বাসিন্দা সন্তোষ জানা, পরিমল বেরা বলেন, গত বছরের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তারমধ্যে ফের নদীতে জল বাড়ায় আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি না।পাঁশকুড়ার বিডিও অমিতকুমার মণ্ডল বলেন, সবক’টি পঞ্চায়েতকে সতর্ক করা হয়েছে। জেলাশাসক পাঁশকুড়া পরিদর্শনে এসেছিলেন। আমরা সকলেই সতর্ক রয়েছি। এই সময় কোনওরকম গুজব নয়, বরং সাবধান থাকা জরুরি। সেচদপ্তরের তমলুক ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, তিনটি জলাধার থেকে ৩০হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। এছাড়াও বৃষ্টির জল নদীতে পড়ছে। যেকারণে কংসাবতী নদীর জলস্তর বেড়েছে। আমরা প্রায় ২৯টি জায়গায় মাটিভর্তি বস্তা মজুত রেখেছি। জেনারেটর রেডি রাখা আছে। রাতদিন নদীবাঁধে নজরদারি চলছে। দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীদের পাশাপাশি একাধিক এজেন্সিও কাজ করছে।