নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মোদি নয়। কৃতিত্ব ভারতীয় সেনার। জয় হিন্দ! এই মর্মেই ‘অপারেশন সিন্দুর’কে বর্ণনা করল বিরোধীরা। পাকিস্তানকে কড়া জবাব দেওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদ ভবনের লাইব্রেরি ওই বৈঠক হবে। তবে সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থাকবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তানি হামলার পর গত ২৪ এপ্রিল একইভাবে সংসদীয় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ছিলেন না মোদি। নিজের সরকারের ব্যর্থতার অস্বস্তি এড়াতেই অনুপস্থিত ছিলেন বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।
তবে এখন তো প্রত্যাঘাত। পাকিস্তানের জঙ্গি শিবির টার্গেট করে মার। ফলে সরকারের তরফে তো প্রধানমন্ত্রীরই উচিত বিরোধীদের সামনে আসা। কংগ্রেস তাই বুধবার দাবি করেছে, মোদিকে সংসদীয় সর্বদল বৈঠকে আসতে হবে। আজকের বৈঠকে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিরোধী দলের প্রায় সব নেতাই হাজির থাকবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পাকিস্তানে প্রত্যাঘাতের পরে সমগ্র ভারত উচ্চসিত হলেও এদিন রাত পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁর ব্যক্তিগত কিংবা পিএমও (প্রাইম মিনিস্টার্স অফিস)র সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে কোনও পোস্ট নেই। না অভিনন্দন ভারতীয় সেনাকেও। কেন? তার কোনও জবাব সরকার তথা বিজেপির কাছে নেই।
তবে বিরোধীরা একসুরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছে। কোনও বিরোধীই পাকিস্তানকে প্রত্যাঘাতের জন্য নরেন্দ্র মোদির গুণগান করেনি। যাবতীয় কৃতিত্ব সেনার। যারা পাকিস্তানের ৯ জায়গায় ‘জবাব’ দিয়ে এসেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, সেনার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ওদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা। খাড়্গে জানান, এখন আমরা সবাই একজোট হয়ে একতার বার্তাই দিতে চাই। পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে সরকার যা ব্যবস্থা নেবে, তার সঙ্গেই আমরা আছি। থাকব। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, ভারতীয় সেনারা দেশকে সুরক্ষিত এবং অখণ্ড রাখে। তাই ভগবান তাঁদের রক্ষা করুন এবং যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শক্তি দিক। সেনার জন্য গর্ব বোধ করি।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, জয় হিন্দ। জয় ইন্ডিয়া। শারদ পাওয়ার কন্যা সুপ্রিয়া সুলে বলেছেন, কোনও নাগরিকের ক্ষতি না করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এই পাকিস্তানকে এই প্রত্যাঘাত আসলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই। ভারতীয় সেনা সেই অবস্থানই স্পষ্ট করেছে। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব বলেছেন, সন্ত্রাসের মূলে আঘাত হানতে পারলে শাখা-প্রশাখা আপনা থেকেই খসে পড়বে। এটিএকটি দীর্ঘ লড়াই। আমাদের সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে সবসময় সজাগ থাকতে হবে। তেজস্বী যাদবের টুইট, লং লিভ হিন্দুস্তান। লং লিভ দ্য ইন্ডিয়ান আর্মি। জয় হিন্দ। দেশে সন্ত্রাসবাদী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড কখনই সহ্য করবে না ভারতীয় সেনা। ভারতীয় সেনা সর্বদা মায়ের কপালের সিঁদুর ও গর্ভ রক্ষা করে। সিপিএম পলিটব্যুরো বিবৃতি জারি করে দাবি করেছে, ভারত সরকারের উচিত পাকিস্তানের ওপর চাপ বাড়ানো। পহেলগাঁও হামলাকারীদের ভারতের হাতে তুলে দিতে হবে।