নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: জেলা পরিষদ এবং শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে ফুলিয়ার রবীন্দ্র পার্ক নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। সংস্কারের নাম করে পার্ক নেওয়ার পরেও আর জেলা পরিষদ তা ফেরাচ্ছে না বলে অভিযোগ বিজেপি পরিচালিত শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার শান্তিপুর বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুলিয়া বিডিও অফিস থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার মাঝখানে রয়েছে গোল বৃত্তাকার এই রবীন্দ্র পার্ক। সাজানোর জন্য পঞ্চায়েত ভোটের আগে ওই পার্ক ব্লক প্রশাসনের কাছ থেকে হস্তান্তর নেয় নদীয়া জেলা পরিষদ। এরপর প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্যায়ন করা হয়। পার্ক আধুনিক ফোয়ারা, শিশুউদ্যান, বসার জায়গা সহ আলো ঝলমলে করে তোলা হয়। কিন্তু, সেই পার্ক আর জেলা পরিষদ হস্তান্তর করতে চাইছে না বলে অভিযোগ শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি চঞ্চল চক্রবর্তীর।
বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই পার্ক আবার আগের চেহারায় ফিরে এসেছে। ঝোপজঙ্গল বেড়ে সাপের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার পার্কটি ফুলিয়া টাউনশিপ পঞ্চায়েত অথবা ব্লক প্রশাসনকে ফেরানোর দাবিতে বিজেপি শান্তিপুর বিডিও অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করে। চঞ্চলবাবু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের টাকায় ওই পার্কটি সংস্কার হয়েছে। জেলা পরিষদ পার্কটি আমাদের ফিরিয়ে দিতে চাইছে না। আমাদের হাতে থাকলে পার্কটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হতো। পার্কে জঙ্গল হয়ে গিয়েছে। তাতে সাপের উৎপাত বাড়ছে। বাচ্চারা খেলতে গিয়ে কামড় খেতে পারে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয়, ওই পার্কের চাবি থাকে তৃণমূল পার্টি অফিসে। আমাদের দাবি, অবিলম্বে পার্কটি ব্লক প্রশাসন অথবা ফুলিয়া টাউনশিপ পঞ্চায়েতকে হস্তান্তর করতে হবে।
এদিকে, তৎকালীন নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা বর্তমান সদস্য রিক্তা কুণ্ডু বলেন, ওই পার্কটি পঞ্চায়েত সমিতির সম্পত্তি নয়। জেলা পরিষদ টাকা খরচ করে পার্কটি সাজিয়েছে। বর্ষায় সর্বত্রই ঝোপজঙ্গল বাড়ে। বর্ষার শেষে ঝোপজঙ্গল পরিষ্কার করা হবে। এ বিষয়ে বর্তমান সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীর বলেন, আমরা এক বছর আগেই পার্কটি পঞ্চায়েত সমিতিকে হস্তান্তর করে দিয়েছি। পরিষদ পার্ক নিজেদের হেফাজতে রাখেনি। -নিজস্ব চিত্র